Showing posts with label জাতক. Show all posts
Showing posts with label জাতক. Show all posts

Sunday, November 17, 2013

0 নামসিদ্ধি জাতক

পুরাকালে বোধিসত্ত্ব তক্ষশিলা নগরে একজন বিখ্যাত আচার্য ছিলেন। পাঁচশতশিষ্য তাঁর বিদ্যাভ্যাস করত। এই সব ছাত্রদের মধ্যে একজনের নাম ছিল পাপক। অন্যান্য ছাত্ররা তাকে সব সময় এস পাপক’, যাও পাপক বলত। তাতে পাপক চিন্তা করতে লাগল, আমার নাম অমঙ্গল সূচক। অতএব আমি অন্য একটি নাম গ্রহণ করব। পাপক তাই আচার্যের কাছে গিয়ে বলল, গুরুদেব, আমার বর্তমান নামটা অমঙ্গলসূচক। আমার অন্য একটি নাম রাখুন। আচার্য বললেন, যাও, তুমিজনপদে গিয়ে ঘুরে একটা মঙ্গল সূচক নাম ঠিক করে এস। তুমি ফিরে এলে তোমারবর্তমান নামটা পরিবর্তন করে অন্য নাম রাখব। পাপক তখন যাত্রা শুরু করল।সে গ্রামে গ্রামে ঘুরে একটি নগরে গিয়ে উপস্থিত হলো। সেই নগরে জীবক নামে একটি লোকের মৃত্যু হয়েছিল সেদিন। জ্ঞাতি কুলগণ তার সৎকারের জন্য তার মৃতদেহ নিয়ে যাচ্ছে দেখে পাপক জানতে চাইল, এই লোকটির নাম কি ছিল?তারা বলল, এর নাম ছিল জীবক। পাপক তখন আশ্চর্য হয়ে বলল, সেকি! জীবক মানেই ত যে দীর্ঘজীবি। সেই জীবকেরও মৃত্য হলো। তখন সেই শবযাত্রারা বলল, জীবকেরও মৃত্যু হয়, অনীবকেরও মৃত্যুহয়। মরা বাঁচা কি নামের উপর নির্ভর করে? নাম তো কোন বস্তু বা ব্যক্তিকেচেনার বা জানার একটা উপায়। তুমি ত দেখছি বড় মোটা বুদ্ধির লোক।

এই কথা শুনে পাপক তা নাম সম্বন্ধে মধ্যমভাব অবলম্বন করল। অর্থাৎ তার নামের উপর বিরক্তি বা অনুরক্তি রইল না
পাপক এবার নগরের ভিতরে গিয়ে দেখল একটি বাড়ির দরজায় এক দাসীকে এক প্রভু ওপ্রভুপত্নী দড়ি দিয়ে প্রহার করছে।
পাপক তখন সেই দাসীর প্রভুর কাছে জানতেচাইল, আপনারা একে প্রহার করছেন কেন?
প্রভু তখন বলল, এই দাসী আজকের উপার্জনের টাকা পয়সা কিছু আনেনি।
পাপক তখন জানতে চাইল, এর নাম কি?
দাসীর প্রভু বলল, এর নাম ধনপালী।
পাপক আশ্চর্য হয়ে বলল সেকি! এর নাম ধনপালী, অথচ এর একদিনের বেতন দেবার ক্ষমতা নেই।
তারা বলল, নাম ধনপালী হোক, বা অধনপালী হোক, তা কি অদৃষ্টিকে এড়াতে পারে? নামে কি আসে যায়?
নাম শুধু ব্যক্তি কে, এই পরিচয় পাওয়া যায়। তুমি দেখছিঅতি স্থুলবুদ্ধি।
এই কথা শুনে পাপক তা নিজের নাম সম্বন্ধে আগেরবিদ্বেষ ভাব ত্যাগ করল। সে নগর হতে বাইরে গিয়ে পথ চলতে লাগল।
কিছুদূরগিয়ে সে দেখল, একটি লোক পথ হারিয়েছে।
পাপক তার কাছে জানতে চাইল, আপনি কি করছেন?
লোকটি বলল, আমি পথ হারিয়ে ফেলেছি, তাই পথ খুঁজছি।
পাপক তার কছে নাম জানতে চাইল।
লোকটি বলল, আমার নাম পন্থক।
পাপক একথা শুনে আশ্চার্য হয়ে ভাবল, পন্থক মানে যে অপরকে পথ দেখায়।
তাই সে বল্ল, সেই! যে পন্থক সে পথ হারায় কি করে?
লোকটি বলল, পন্থক হোক অপন্থকই হোক সব লোকই পথা হারায়। নামে কি আসে যায়?
নাম শুধু কোন ব্যক্তি কে, এই পরিচয় জানা যায়। তোমার বুদ্ধি ত দেখছি খুবমোটা।
এবার পন্থক নিজের নাম সম্বন্ধে সম্পূর্ণ রূপে বিদ্বেষ হীন হলো।সে আচার্যের কাছে ফিরে গেল।
আচার্য তাকে জানতে চাইল, কি বতস নাম নির্বাচনকরে এলে?
পাপক বলল, গুরুদেব , যার নাম জীবক সেও মরে, যার নাম অজীবক, সেও মরে।
যার নাম ধনপালী সেও দরিদ্র হয় আর যার নাম অধনপালী সেও দরিদ্রহয়।
যার নাম পন্থক সেও পথ হারায়, যার নাম অপন্থক সেও পথ হারায়।
নামে কিআসে যায়? এখন দেখছি, নামের কোন সারবত্তা নেই।
নামদ্বারা কোন বস্তু বাব্যক্তি দে কি তা শুধু জানা যায়। নামে সিদ্ধি লাভ হয় না।
সিদ্ধিলাভের উপায় হলো কর্ম। অতএব আমার অন্য নামের প্রয়োজন নেই।
আমার যে নাম আছে তাই থাকুক।

পপকের সব কথা শুনে বোধিসত্ব এই উপদেশ দান করলেন যে, নামে কিছু আসে যায়না।
একমাত্র সিদ্ধিদাতা হচ্ছে কর্ম- এই সত্য যেন সবাই মনে রাখে।

 
সূত্রঃhttp://www.nirvanapeace.com

Monday, November 11, 2013

0 বিশাখা

বিশাখাঃ ভন্তে,আমার শ্বশুর বাসী খাবার খাচ্ছেনআপনাকে দান করবার মন নেই
শ্বশুরঃবাইরের মানুষের সামনে তুমি আমাকে অপমান করলে? ধরণের পুত্র বঁধু আমি চাইনাতুমি বাপের বাড়ী চলে যাও
বিশাখাঃপিতা,আমি কেন বলেছি কথা?কারণ আপনি পূর্ব জন্মের পুণ্যের ফলগুলো ভোগ করছেনপূর্ব জন্মের পুণ্যগুলোকে বাসী বলেছিআপনার খাবারকে নয়আপনি যদি জন্মে দান না করেন তাহলে ভাবী জন্মে রকম খাবার পাবেন নাপুণ্যই সকল সুখের মূল উৎস
শ্বশুরঃআসলেই আমার পুত্রবঁধু অনেক জ্ঞানী
বিশাখা তার শ্বশুরকে মার্গ-ফলে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহার্য্য করেছিলেনতাই বিশাখার অপর নাম মিগার মাতাপ্রতিটি ঘর ধার্মিক পুত্র বঁধু কামনা করে থাকে

Thursday, October 24, 2013

0 জাতক


ভগবান তথাগত সেই সময় শ্রাবস্তীতে অনাথপিন্ডকের জেতবন বিহারে অবস্থান করছিলেন। একদিন তিনি বিহারে ভিক্ষু-ভিক্ষুনী, শ্রাবক-শ্রাবিকা, উপাসক-উপাসিকাদের উদ্দেশ্যে ধম্ম দেশনা করছিলেন। সহসা শিশুসন্তান কোলে এক ভয়ার্ত রমনী জেতবন আরামে প্রবেশ করলেন এবং বুদ্ধের চরণে তার শিশু সন্তানটিকে রেখে ক্রন্দন পুর্বক আশ্রয় ও নিরাপত্তা ভিক্ষা করতে লাগলেন। তিনি তথাগতকে জানালেন পথে কালী নামক এক যক্ষিনী (বনচারী মানবী) শিশুটিকে হরন করার অভিপ্রায় তার পশ্চাদ্ধাবন করেছে। 
ওদিকে রমনী বিহারে প্রবেশ করলেও যক্ষিনী বিহারে প্রবেশ না করে বাইরে রমনীর ফিরে আসার অপেক্ষা করতে লাগল। কিছু সময় পরে তথাগতর আদেশে যক্ষিনীকে জেতবন আরামের ভিতরে বুদ্ধ সমীপে এনে উপস্থিত করা হল। তখন তথাগত রমনী ও যক্ষিনী উভয়কেই বহু তিরস্কার করে বললেন যে তাদের শত্রুতা ও প্রতিশোধ স্পৃহা কেবল এই জন্মেরই নয় অপিতু পুর্ববর্তী বহু জন্ম ধরে তারা পরস্পর পরস্পরের সাথে শত্রুতা ও প্রতিশোধের সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। 
তারপর তথাগত এরকম জানান যে পূর্ববর্তী কোন এক জন্মে তারা পরস্পরের সপত্নী ছিলেন। এক গহপতি প্রথম পত্নীর বন্ধ্যাত্বের দরুন দ্বিতীয় বিবাহ করেছিলেন। দ্বিতীয়ার যখন গর্ভসঞ্চার হল তখন ঈর্ষার বশবর্তী হয়ে প্রথমা এমন ব্যবস্থা করল যাতে তার গর্ভপাত হয়ে যায়। ফলস্বরূপ গর্ভপাত তো হলই, তার সাথে সাথে দ্বিতীয়ারও মৃত্যু হল, সেই থেকে এই চিরস্থায়ী বৈরীর সুত্রপাত হয়। পরবর্তী জন্মে প্রতিশোধ গ্রহনের উদ্দেশ্যে তার দুজনে যথাক্রমে কুক্কুট এবং মার্জারী রূপে জন্ম নেয় এবং কুক্কুটের শাবক হত্যা করে মার্জারী প্রতিশোধ পুরণ করে। এরপর আবার তাদের দুজনের জন্ম হয় চিত্র-ব্যাঘ্রী এবং মৃগী রূপে এবং বর্তমানে তাদের একজনের জন্ম হয়েছে শ্রাবস্তীর এক গৃহপতি কন্যারূপে এবং অন্যজনের জন্ম হয়েছে কালী যক্ষিনী রূপে। চিরশত্রুতার সুত্র ধরে তারা বারবার পরস্পরের প্রতি প্রতিশোধ নিয়ে চলেছে। কিন্তু শত্রুতা ও প্রতিশোধ স্পৃহা দিয়ে এই চিরশত্রুতার প্রশমন সম্ভব নয়। একমাত্র অবৈর অর্থাৎ মৈত্রী দ্বারাই এই চির ত্রুতা প্রশমিত হবে।
তখন তথাগত তাদের উদ্দেশ্যে নিম্নোক্ত পংক্তিটি দেশনা করেন...