Tuesday, April 29, 2014

0 আটানাটিয সুত্তং (পালি)

নিদানং
অপ্পসন্নেহি নাথস্স, সাসনে সাধুসম্মতে,
অমনুস্সেহি চণ্ডেহি, সদা কিব্বিসকারীহি।
পরিসানং চতস্সন্নং, অহিংসায চ গুত্তিযা,
যং দেসেসি মহাবীরো, পরিত্তং তং ভণাম হে ॥

সুত্তং
০১।  বিপস্সিস্স চ নমত্থু চক্খুমন্তস্স সিরীমতো,
সিখিস্সপি চ নমত্থু, সব্বভূতানুকম্পিনো।
০২।  বেস্সভূস্স চ নমত্থু, নহাতকস্স তপস্সিনো,
নমত্থু ককুসন্ধস্স, মারসেনপ্পমদ্দিনো।
০৩।  কোণাগমনস্স নমত্থু, ব্রাহ্মণস্স বুসীমতো,
কস্সপস্স চ নমত্থু, বিপ্পমুত্তস্স সব্বধি।
০৪। অঙ্গীরসস্স নমত্থু, সক্যপুত্তস্স সিরীমতো,
যো ইমং ধম্মং দেসেসি, সব্বদুক্খপনূদনং।
০৫। যে চা’পি নিব্বুতা লোকে যথাভূতং বিপস্সিসুং
তে জনা অপিসুনাথ মহন্তা বীতসারদা।
০৬। হিতং দেবমনুস্সানং যং নমস্সন্তি গোতমং,
বিজ্জাচরণসম্পন্নং, মহন্তং বীতসারদং।
০৭। এতে চ’ঞঞে চ সম্বুদ্ধা, অনেক সতকোটিযো,
সব্বে বুদ্ধা সমসমা, সব্বে বুদ্ধা মহিদ্ধিকা।
০৮। সব্বে দসবলূপেতা, বেসারজ্জেহুপাগতা,
সব্বে তে পাটিজানন্তি অসাভট্ঠানমুত্তমং।
০৯। সীহনাদং নাদন্তে’তে পরিসাসু বিসারদা,
ব্রহ্মচক্কং পবত্তেন্তি লোকে অপ্পটিবত্তিযং।
১০। উপেতা বুদ্ধধম্মেহি, অট্ঠারসহি নাযকা,
বত্তিংস লক্খণূপেতা, সীতানুব্যঞ্জনধরা।
১১। ব্যামপ্পভায সুপ্পভা, সব্বে তে মুনিকূঞ্জরা,
বুদ্ধা সব্বঞ্ঞূনো এতে, সব্বে খীণাসবা জিনা।
১২। মহাপ্পভা মহাতেজা, মহাপঞ্ঞা মহাব্বলা,
মহাকারুণিকা ধীরা, সব্বেসানং সুখাবহা।
১৩। দীপা নাথা, পতিট্ঠা চ, তাণা লেণা চ পণীনং,
গতি বন্ধু মহস্সাসা, সরণা চ হিতেসিনো।
১৪। সদেবকস্স লোকস্স সব্বে এতে পরাযণা,
তেসাহং সিরসা পাদে বন্দামি পুরিসুত্তমে।
১৫। বচসা মনসা চেব, বন্দামেতে তথাগতে,
সযনে আসনে ঠানে, গমনে চাপি সব্বদা।
১৬। সদা সুখেন রক্খন্তু, বুদ্ধা সন্তিকরা তুবং,
তেহি তং রক্খিতো সন্তো, মুত্তো সব্বভযেহি চ।
১৭। সব্বরোগা বিনিম্মুত্তো, সব্বসন্তাপ বজ্জিতো,
সব্ববেরমতিক্কন্তো, নিব্বুতো চ তুবং ভবং।
১৮। তেসং সচ্চেন সীলেন, খন্তী মেত্ত বলেন চ,
তেপি তুম্হে অনুরক্খন্তু আরোগ্যেন সুখেন চ।
১৯। পুরত্থিমস্মিং দিসাভাগে, সন্তি ভূতা সহিদ্ধিকা,
তেপি তুম্হে অনুরক্খন্তু আরোগ্যোন সুখেন চ।
২০। দক্খিণস্মিং দিসাভাগে, সন্তি দেবা মহিদ্ধিকা,
তেপি তুম্হে অনুরক্খন্তু আরোগ্যেন সুখেন চ।
২১। পচ্ছিমস্মিং দিসাভাগে, সন্তি নাগা মহিদ্ধিকা,
তেপি তুম্হে অনুরক্খন্তু আরোগ্যেন সুখেন চ।
২২। উত্তরস্মিং দিসাভাগে, সন্তি যক্খা মহিদ্ধিকা,
তেপি তুম্হে অনুরক্খন্তু আরোগ্যেন সুখেন চ।
২৩। পুরত্থিমেন ধতরট্ঠো, দক্খিণেন বিরূল্হকো,
পচ্ছিমেন বিরূপক্খো, কুবেরো উত্তরং দিসং।
২৪। চত্তারো তে মহারাজা, লোকপালা যসস্সিনো,
তেপি তুম্হে অনুরক্খন্তু, আরোগ্যেন সুখেন চ।
২৫। আকাসট্ঠা চ ভূম্মট্ঠ দেবনাগা মহিদ্ধিকা,
তেপি তুম্হে অনুরক্খন্তু, আরোগ্যেন সুখেন চ।
২৬। ইদ্ধিমন্তা চ যে দেবা বসন্তা ইধ সাসনে,
তেপি তুম্হে অনুরক্খন্তু, আরোগ্যেন সুখেন চ।
২৭। সব্বীতিযো বিবজ্জন্তু সোকো রোগো বিনস্সতু,
মা তে ভবত্বন্তরাযো, সুখী দীঘাযুকো ভব।
২৮। অভিবাদন সীলস্স নিচ্চং বুড্ঢাপচাযিনো,
চত্তারো ধম্মা বড্ঢন্তি আযু বণ্ণং সুখং বলং ॥ 

তথ্যসূত্র :http://www.dhammainfo.com

0 গৌতম বুদ্ধের প্রকৃতি প্রেম

আমরা গৌতম বুদ্ধের জীব প্রেম সম্পর্কে সকলেই অবগত। জগতের সকল প্রাণী সুখী হউক অপ্রমেয় মৈত্রীর এ বাণীই তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ। এবার আমরা আলোচনা করছি বুদ্ধের প্রকৃতি প্রেম নিয়ে।
প্রকৃতির বিরূপ আচরণ, বৈশ্বিক উষ্ণতা এবং নানাবিধ প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে বিশ্ব আজ উৎকণ্ঠিত। দিনে দিনে এ ধরিত্রীর আরো বিপর্যয়! বিশ্বের অস্তিত্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি কার্বনের নিঃসরণ না কমে বরং বাড়ছে। ফলে বিপর্যয় আরো ঘনীভূত হচ্ছে। পত্রিকার পাতা খুলতেই চমকে উঠছে মানব সত্ত্বা। একের পর এক বিপর্যয়ের দুঃখলীলা। ঘন ঘন ভূমিকম্প, সুনামি, সাইক্লোন, খরা, অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং নানাবিধ প্রাকৃতিক দুযোর্গে মানুষের জীবন সদা মৃত্যুর সাথে সংগ্রামময়। অনেকের মতে, এর সবই আমাদের নিজেদের ডেকে আনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন- এর সবই হচ্ছে বিশ্বের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায়। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বরফ গলে সাগরের উচ্চতা বাড়ছে। ফলে ইতিমধ্যে তলিয়ে গেছে বিশ্বের বহু জনপদ। আর এই ঝুঁকির মধ্যে থাকা দেশগুলোর শীর্ষে আছে আমাদের এই বাংলাদেশও।
প্রতি বছর ২২ এপ্রিল বিশ্বের প্রকৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা ও ভালোবাসা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিশ্ব ধরিত্রী দিবস পালিত হয়। এ দিবসটির শ্লোগান হয়- ধরিত্রী বাঁচান, বাঁচান নিজেকে। ১৯৭০ সনের ২২ এপ্রিল মার্কিন সিনেটর গেলর্ড নেলসন ধরিত্রী দিবসের প্রচলন করেন। এটি ১৯৯০ সালে আন্তর্জাতিক ভাবে পালিত হয় এবং ১৪১ টি জাতি দ্বারা আয়োজন করা হয়েছিল। সিনেটর গেলর্ড নেলসন ১৯৭০ সালে যে আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন তার নাম Environmental Teach-In
কিন্তু প্রকৃতি, পরিবেশ, ধরিত্রীর প্রতি সচেতনতা, ভালোবাসা এবং প্রাকৃতিক এ বিপর্যয়ের কথা ভেবে বুদ্ধ প্রাণ ও প্রকৃতিকে রক্ষার জন্য ভিক্ষু সংঘ ও সাধারণ মানুষকে নানা দিক-নির্দেশনা দিয়েছিলেন আজ থেকে আড়াই হাজার বছরেরও আগে। প্রথমে আমরা বুদ্ধের জীবনের দিকে লক্ষ্য করি- সিদ্ধার্থ গৌতমের জীবনটাই ছিল প্রকৃতির মায়াজালে বাঁধা। তাঁর জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ এবং মহাপরিনির্বাণ এ তিন মহা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয় খোলা আকাশের নিচে, বৃক্ষের ছায়াতলে
যে গাছের নিচে আমরা ছায়া লাভ করি, সেই গাছের পাতা, শাখা-প্রশাখা, ডাল-পালা অকারণে ভেঙ্গে ফেলা উচিত নয় বলে বুদ্ধ বোধিসত্ত্বাবস্থায়ও আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন, যা আমরা মহাবোধি জাতকে দেখতে পায়। এবং বোধিবৃক্ষের ছায়ায় বসে তিনি বুদ্ধত্ব লাভ করেছিলেন বলে অনিমেষ স্থানে বসে সপ্তাহকাল অনিমেষ নয়নে বোধিবৃক্ষের দিকে তাকিয়ে যেরূপ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, তা আমরা সকলেই অবগত।
যথাপি ভমরো পুপ্ফং বণ্নগন্ধং অহেঠযং পলেতি রসমাদায এবং গামে সুখী চরে। - পুপ্ফবগ্‌গো ০৬

অর্থাৎ, ভ্রমর যেমন বর্ণ ও গন্ধ নষ্ট না করে ফুলের মধু আহরণ করে, ভিক্খুও তেমনি লোকালয়ে বিচরণ করবে। মহাকারুণিক বুদ্ধ আরো দেশনা করেন- কালের মহা-পরিক্রমায় জন্ম-জন্মান্তরে আমরা কোনো না কোনো প্রাণিকুলে জন্ম নিয়েছিলাম। সেই সূত্রে বিশ্বের প্রায় সব প্রাণীর সঙ্গে রয়েছে আমাদের অদৃশ্য অচ্ছেদ্য আত্মীয়তার বন্ধন। অন্তত এ কথা ভেবে আমাদের কোনো প্রাণীর প্রাণ সংহার করা উচিত নয় (লঙ্কাবতার সূত্র)
কেবল প্রাণী হত্যা থেকে বিরত থাকা নয়, বুদ্ধ ভিক্খু সংঘের প্রতি প্রাণীর হাড়, দাঁত ও শিংয়ের তৈরি জিনিস ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। প্রাণীর প্রাণ রক্ষার পাশাপাশি তৃণ ও উদ্ভিদ রক্ষায় বুদ্ধ ভিক্খু সংঘকে বিশেষ নির্দেশ দেন। বর্ষাকালে ভিক্খুদের হাঁটাচলায় যাতে তৃণ বা শস্যহানি না হয় এর জন্য বুদ্ধ ভিক্খু সংঘকে বর্ষা ঋতুতে তিন মাস এক নাগাড়ে এক স্থানে অবস্থান নিয়ে বর্ষাব্রত পালনের নির্দেশ দিয়েছেন।
বিনয় পিটকে বুদ্ধ ভিক্খু সংঘের প্রতি গাছ কাটতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। সংযুক্ত নিকায়ের বনরূপা সূত্রে, বুদ্ধ ভিক্খু সংঘকে গাছ লাগাতে এবং বনায়ন সৃষ্টিতে উৎসাহিত করেন। চক্কবত্তিসিংহনাদ সূত্রে বুদ্ধ আদর্শ রাজার বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করতে গিয়ে দেশনা করেন- একজন আদর্শ রাজা কেবল তাঁর প্রজার রক্ষক নন, তিনি বন, প্রাণী ও পক্ষিকুলেরও আদর্শ রক্ষক। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় বুদ্ধ কোশলরাজ প্রসেনজিৎ ও মগধের রাজা বিম্বিসারকে মহান রক্ষকের ভূমিকা পালনে উদ্ধুদ্ধ করেছিলেন। বুদ্ধের উপদেশ মেনে চললে প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতার কুফল আজ আমাদের ভোগ করতে হতো না।
চিত্তেনা নিযতি লোকো (চিত্ত দ্বারা বিশ্ব শাসিত)। চিত্ত শাসন করে ষড়রিপুকে । তাই সবার আগে চাই চিত্ত বা মনের সংস্কার। নির্মল মন মানে নির্মল বিশ্ব। বায়ু (অক্সিজেন), পানি, সৌরতাপ ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। উদ্ভিদ অক্সিজেন দেয়, চুষে নেয় কার্বন-ডাই অক্সাইড। তাই উদ্ভিদ মানুষের পরম বান্ধব। ধরিত্রী উদ্ভিদ, প্রাণী ও প্রাকৃতিক নানান উপাচারে ইকো-সিসটেম চালু রেখে মানুষকে বাঁচিয়ে রেখেছে। ধরিত্রী যেন সর্বংসহা মা। দুগ্ধপোষ্য শিশুদের ন্যায় আমাদের আগলে রেখেছে। এ মায়ের প্রতি আমাদেরও সকৃতজ্ঞ প্রতিদানের কর্তব্য রয়েছে। সব প্রাণীর জন্য মমত্ববোধ, শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের পরিবেশ সৃষ্টি করে বাঁচাতে হবে প্রিয় ধরিত্রীকে।

  তথ্যসূত্র :http://www.dhammainfo.com

Saturday, April 26, 2014

0 দশ মাস দশ দিন পরে

আমি কেঁদেছিলাম লিখাটা পড়ে......
শেয়ার করলাম তরুণ সমাজের সাথে।
আপনাদের সাথে শেয়ার
না করে পারলাম না...।
কিছুদিন আগে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু
এভিনিউ‘র
আইল্যান্ডে কে কারা একটি নবজাতকের
লাশ ফেলে যায়। সে নবজাতকের
লাশকে ঘিরে সেখানে উৎসুক জনতার
ভিড় জমে।
এখন এই নবজাতকের লাশটা যদি প্রশ্ন
করেঃ~
দশ মাস দশ দিন পরে,
...
জন্ম নেবো তোমার ঘরে, মাগো!
কি দোষ আমার, একলা ফেলে...
কোথায় তুমি ভাগো..?!
... বাপের ১০ মিনিটের সুখ,
তোমার ১০ মাসের এক বোঝা,
সস্তা প্রেমের পরিণতি..
এতোটাই কি সোজা..!?
কি পাপ আমার, আমারে ক্যান
জলে ফেল্লি মা?
নর্দমাতে ডুবি আমি, সাতাঁর
জানি না..!
নাভিটাও কাটলিনা মা!
তুই যে বড়ই অলস!
"নাড়ি ছেঁড়া ধন" আমি তোর..
ক্যামনে এটা বলোশ..!?
মাগো..!! সমাজ ভয়ে হয়তো আমায়,
রাখলি নিচে নামায়..!!
১০ মিনিটের সুখের লাইগা, আর মারিশ
না আমায়!!!!
ফেসবুক থেকে সংগ্রহ এবং রিপোস্ট 

Friday, March 14, 2014

0 একজন মাকে বাঁচানোর জন্য মানবিক আবেদন

একজন মাকে বাঁচানোর জন্য মানবিক আবেদন
অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানানো যাচ্ছে যে শোভা বডূয়া , স্বামী সুদর্শন বডূয়া, গ্রাম- উখিয়ার ঘোনা, থানা - রামু , জেলা – কক্সবাজার, সে দুরারোগ্য্য ব্যাধি ব্লাড ক্যান্সারে এ আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বর্তমানে তার তুমকি বড়ুয়া (৮) ও টুম্পা বড়ুয়া (৪) নামে ফুটফুটে দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে । তার জীবন রক্ষার্থে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অতিসত্বর দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া অত্যাবশ্যক। এই চিকিৎসার জন্য প্রায় ২০ লক্ষ টাকা প্রয়োজন,যা তার দরিদ্র পরিবারের পক্ষে বহন করা অসম্ভব।
আপনাদের সকলের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ আপনারা যে যতটুকু পারেন সাহায্য করে একজন মাকে বাঁচাতে ও তার ফুটফুটে দুটি কন্যা সন্তানের ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে সবার কাছে সাহায্যের হাত বাডানোর জন্য অনূরোধ করা গেল ।
সাহায্য পাঠানোর ঠিকানাঃ- আনন্দ বালা বড়ুয়া, সঞ্চয়ী হিসাব নং- ২০৪৪৬১১৮২৫০৩১ আই এফ আই সি ব্যাংক লিমিটেড, কক্সবাজার শাখা ।
বিকাশে টাকা পাটানোর ঠিকানা – সুদর্শন বড়ুয়া, মোবাইল নং – ০১৮২৪৪১৭৬৩৮।
এই সংবেদনশীল ছবিটি শুধুমাত্র কিছু লাইক পাওয়ার উদ্দেশ্যেই আপলোড দেয়া হয়নি। অতএব এই ছবিটি দেখার পর আপনাদের সহানুভুতি শুধুমাত্র লাইক দেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এই পরিবারটির সাহায্যার্থে এগিয়ে আসুন।
সবাইকে শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করা গেলো


Ref:-Facebook/Pranjol Barua


Monday, January 20, 2014

0 বৌদ্ধবিহারের সন্ধান মিলল পশ্চিম মেদিনীপুরের মোগলমারিতে

একটি নয়, দু’টি বৌদ্ধবিহারের সন্ধান মিলল পশ্চিম মেদিনীপুরের মোগলমারিতে। দু’টি বৌদ্ধবিহার মুখোমুখি। দু’টিই ষষ্ঠ শতকের। একটির নাম পড়া গিয়েছে, বন্দক। অন্যটির নাম পড়ার চেষ্টা চলছে। হিউয়েন সাং বা জুয়ান জ্যাং কথিত বৌদ্ধবিহারগুলির মধ্যে এই দু’টি নবতম আবিষ্কার। পশ্চিম মেদিনীপুরের মোগলমারি প্রত্নস্থলে সম্প্রতি উৎখনন করে এই দু’টি বিহারের সন্ধান পেয়েছেন পুরাতত্ত্ববিদেরা। রাজ্য পুরাতত্ত্ব দফতরের উপ অধিকর্তা অমল রায় বলেন, “পুব ও পশ্চিম দিকে মুখোমুখি দু’টি বৌদ্ধ বিহার ছিল। দু’টিই সমসাময়িক।”
সম্প্রতি এই প্রত্নস্থল থেকে মোট চারটি পোড়ামাটির নামফলক পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যে দু’টি প্রায় অক্ষত। অমলবাবু বলেন, “মোটামুটি অক্ষত ফলক দু’টির প্রাথমিক ভাবে পাঠোদ্ধার করা গিয়েছে। এই দু’টিতেই ষষ্ঠ শতকের ব্রাহ্মী হরফে সংস্কৃত ভাষায় লেখা রয়েছে, ‘শ্রী বন্দক মহাবিহারে আর্য ভিক্ষুসঙ্ঘঃ’। অর্থাৎ, একটি বিহারের নাম ছিল বন্দক।” অন্য বিহারটির নাম পড়ারও চেষ্টা চলছে।
প্রাচীন লিপি ও মুদ্রা বিশেষজ্ঞ সুরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য বলেন, “আর্য শব্দটির এখানে অর্থ সম্মানিত। অর্থাৎ বাক্যটির মানে হচ্ছে, এই মহাবিহারে সম্মানিত বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সঙ্ঘ ছিল।” দু’টি প্রায় অক্ষত নামফলকের উপরে রয়েছে ধর্মচক্রের দু’দিকে হরিণের ছবি। সুরেশবাবু জানান, বুদ্ধ প্রথম ধর্মচক্র প্রবর্তন করেছিলেন সারনাথে। যার প্রাচীন নাম ছিল মৃগদাব অর্থাৎ হরিণের উদ্যান। তাই সারনাথের এই প্রতীকী ছবিটি বৌদ্ধরা অনেক সময়েই সসম্ভ্রমে ব্যবহার করতেন। বৌদ্ধ মহাবিহারেও সেই চিত্র পাওয়া খুবই স্বাভাবিক।

এর আগে পশ্চিমবঙ্গে আরও দু’টি বড় বৌদ্ধ বিহার আবিষ্কৃত হয়েছে। একটি মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণের রক্তমৃত্তিকা, অন্যটি মালদহের জগজীবনপুরে নন্দদীর্ঘিকা বিহার। এই দু’টি বিহার থেকেই নামফলক পাওয়া গিয়েছিল। রক্তমৃত্তিকা ষষ্ঠ-সপ্তম শতকের মহাবিহার, নন্দদীর্ঘিকা নবম শতকের মাঝামাঝি সময়ের। জুয়ান জ্যাং সপ্তম শতকে জানিয়েছিলেন, তাম্রলিপ্তের আশেপাশেও বেশ কয়েকটি বৌদ্ধ বিহার রয়েছে। মোগলমারির এই বিহারটি সেই বিহারগুলিরই অন্যতম বলে মনে করছেন পুরাতত্ত্ববিদেরা। অমলবাবু বলেন, “মোগলমারির বিহারগুলিতে ষষ্ঠ থেকে সপ্তম শতকের মধ্যেই তিন দফায় পুনর্গঠন হয়েছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। সেক্ষেত্রে এই বিহারগুলি সে কালে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অন্তত দু’শো বছর ধরে সজীবও ছিল।”
সুরেশবাবু জানান, এই বিহার বা তার থেকে আকারে বড় মহাবিহারগুলিতে পুজার্চনা হত, লেখাপড়াও হত। পুথি নকল করা হত। সে কারণেই অনেক বৌদ্ধ ভিক্ষু সেখানে নিয়মিত থাকতেন। আসতেন অতিথিরাও। তাই রীতিমতো সম্পদশালীও ছিল এই বৌদ্ধ উপাসনা ও পাঠস্থানগুলি। মোগলমারির মহাবিহারটি থেকেও সম্প্রতি মিলেছে ধাতুমুদ্রা। সুরেশবাবু বলেন, “ওই ধাতুমুদ্রাটির গায়ের লিপি থেকে বোঝা যাচ্ছে, তা রাজা সমাচার দেবের মুদ্রা। অতিথিদের হাত ধরেই বা দান হিসেবে ওই মুদ্রা মহাবিহারে আসতে পারে।” এই প্রত্নস্থলটির সংরক্ষণে উদ্যোগী হয়েছে মোগলমারি তরুণ সেবা সঙ্ঘ ও পাঠাগার নামে স্থানীয় একটি সংগঠনও। রাজ্য পুরাতত্ত্ব দফতরের পক্ষে জানানো হয়েছে, ২০০২ সাল থেকে এই প্রত্নস্থলের খননকার্য শুরু হয়েছিল। মাটি থেকে তুলে আনার পরে রোদ-হাওয়ার সংস্পর্শে এসে কিছু পুরাবস্তুর ক্ষতিও হয়েছিল। তবে তার অনেকটাই ইতিমধ্যেই সংস্কার করা হয়ে গিয়েছে।
সূত্র: অলখ মুখোপাধ্যায় • আনন্দ বাজার পত্রিকা, কলকাতা
কৃতজ্ঞতাঃ http://nirvanapeace.com

Sunday, January 19, 2014

0 নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম ফেব্রুয়ারীতে শুরু হচ্ছে

উপমহাদেশের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় নালন্দা প্রায় ৮০০ বছর পর আবার খুলছে। আগামী ফেব্রুয়ারী ২০১৪ থেকে ক্লাস শুরু হবে। তবে প্রথম দিকে ছোট স্কেলে এর কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। খবর ইণ্ডিয়া টুডে।
অতীত ইতিহাসের দিকে দৃষ্টি রেখে পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয়টি থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে রাজগীর এলাকায় নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে। বৌদ্ধনীতি মেনে নতুন ভবনগুলো নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। তবে, বর্তমানের সীমিত পরিসরের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে আগামী ফেব্রুয়ারীতে প্রথম ব্যাচের পাঠদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। স্নাতকোত্তর বিশ্ববিদ্যালয়টি ইতিপূর্বে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে গবেষণা প্রস্তাব চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় ইতিহাস এবং বাস্তুবিদ্যা ও পরিবেশ এ দুটি বিষয়ে পাঠদান শুরু হচ্ছে।
গত মে ২০১৩, নালন্দা বোর্ড প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। এবং সরকার দ্রুততার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হাতে নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন। সে প্রেক্ষিতে, গত ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, রাজ্য সভায় নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল ২০১৩ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্বারা অনুমোদিত হয় এবং তা সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ডিসেম্বর শীলকালীন সংসদ অধিবেশন চলাকালীন রাজ্যসভার মধ্যে তা সারণীবুক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, উত্তর ভারতের বিহার রাজ্যের এ বিশ্ববিদ্যালয়টি বহিঃশত্রুর আক্রমণে ১১৯৩ সালে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। ভারতের নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের নেতৃত্বে একদল রাজনৈতিক ও পণ্ডিতের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়টি আবার চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এটিকে আবারও আন্তর্জাতিক জ্ঞানচর্চার অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত করতে উদ্যোক্তারা কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন বলে জানিয়েছে বিসিসি। বার্তা সংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি বলা হয়েছে, বিশ্বের সেরা শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ধ্বংসাবশেষের পাশেই স্থাপিত হবে নতুন ভবন। বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার মানবিক, অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনা, এশীয় একাঙ্গি ভবন, স্থিতিশীল উন্নয়ন এবং এশীয় ভাষাগুলোর ওপর পাঠদান শুরু হবে। ধীরে ধীরে এতে বৈচিত্র্য বাড়ানো হবে।
কৃতজ্ঞতা :http://nirvanapeace.com/

Friday, January 17, 2014

0 বুদ্ধ ও বৌদ্ধ ধর্ম

এই নিবন্ধটিতে বুদ্ধের জীবনী এবং বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে। প্রথমেই আমরা বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা বুদ্ধের জীবনী প্রসংগে আলোকপাত করছি
জন্ম, শিক্ষা, বিবাহ
 
সিদ্ধার্থ গৌতম বুদ্ধের পূর্ব নাম যিনি বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা। বুদ্ধ শব্দের অর্থ জ্ঞানী। বুদ্ধের জন্ম ৬২৪ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দে বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে। সঠিক জন্মসাল নিয়ে পন্ডিতদের মধ্যে বির্তক থাকলেও সম্প্রতি লুম্বিনিতে আবিষ্কারের ফলে সেই শংসয় দূরীভূত হয়েছে। সিদ্ধার্থের পিতা শুদ্ধোদন ছিলেন শাক্য বংশীয় রাজা। এবং মায়ের নাম মহামায়া। মহামায়া কপিলাবস্তু থেকে পিতার রাজ্য দেবদহে যাবার পথে লুম্বিনি গ্রামে (অধুনা নেপালের অন্তর্গত) সিদ্ধার্থের জন্ম দেন। তাঁর জন্মের সপ্তম দিনে মায়াদেবীর জীবনাবসান হয়। পরে তিনি বিমাতা মহাপ্রজাপতি গৌতমী কতৃক লালিত হন। তাঁর জন্মের পর জ্যোতিষিরা তাঁর ৩২ প্রকার মহাপুরুষ লক্ষণ এবং ৮০ প্রকার অনুব্যন্জন চিহ্ন দেখে ভবিষ্যতবাণী করেন হয়তো তিনি সংসার ত্যাগ করে বুদ্ধ হবেন নতুবা রাজচক্রবর্তী হবেন।
 
যথাসময়ে তিনি নানাবিধ বিষয়ে পারদর্শী হন। গুরুর নিকট তিনি বিবিধ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। যেমন- বেদ, সাংখ্য, যোগ, ব্যাকরণ, জ্যোতিষশাস্ত্র, তর্কশাস্ত্র, শব্দ-প্রকরণ, ছন্দ-প্রকরণ, ইতিহাস, অর্থনীতি ইত্যাদি। যুদ্ধ বিদ্যায়ও তিনি পারদর্শী ছিলেন। অশ্বারোহন ও রথ চালনায় কেউ তাঁর সমকক্ষ ছিল না।
 
সিদ্ধার্থ গৌতম ছোটবেলা থেকেই বিবিধ বিষয়ে চিন্তাযুক্ত ছিলেন। পিতা শুদ্ধোধন তাঁকে সংসারে আকৃষ্ট করতে তাঁকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করতে চাইলেন। ১৬ বছর বয়সে দেবদহের রাজকুমারী যশোধারার (গোপাদেবী) সাথে সিদ্ধার্থের বিয়ে হয়। তাঁর সুখের জন্য তাঁর পিতা শীত-বর্ষা-গ্রীস্ম এই তিন ঋতু অনুযায়ী তিনটি বিলাসবহুল ভবনও নির্মাণ করেন। কিন্তু সিদ্ধার্থের মন ভোগ-সুখে অনাসক্ত ছিল।  
 
মহাভিনিষ্ক্রমণ


একদিন রাজকুমার সিদ্ধার্থ বেড়াতে বের হলে ৪ জন ব্যক্তির সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। প্রথমে তিনি দেখেন একজন জড়া গ্রস্থ বৃদ্ধ মানুষ, অতঃপর একজন ব্যাধি গ্রস্থ অসুস্থ মানুষ তারপর একজন মৃত মানুষকে দেখতে পান। তিনি তাঁর সারথী ছন্দকে এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে, ছন্দ তাঁকে বুঝিয়ে বলেন যে এটিই সকল মানুষের নিয়তি। অবশেষে, তিনি দেখা পেলেন একজন সন্যাসীর যিনি মুণ্ডিতমস্তক এবং পীতবর্ণের জীর্ণ বাস পরিহিত। সারথী ছন্দকে এঁর সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে, তিনি বলেন উনি একজন সন্ন্যাসী,
যিনি নিজ জীবন ত্যাগ করেছেন মানুষের দুঃখের জন্য। রাজকুমার সিদ্ধার্থ সেই রাত্রেই ঘুমন্ত স্ত্রী, পুত্র, পরিবারকে নিঃশব্দ বিদায় জানিয়ে রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করেন সংসারে বিদ্যমান দুঃখের মুক্তির জন্য। সেদিন তাঁর পুত্র রাহুল জন্ম নেয়। সংসারের দুঃখ নিথে পরিত্রানের জন্য যাত্রা শুরু করেন সারথী ছন্দকে নিয়ে।প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে অনোমা নদীর প্রান্তে পৌঁছিয়ে তিনি থামলেন। তলোয়ার দিয়ে কেটে ফেললেন তার লম্বা চুল। অতঃপর ছন্দকে বিদায় জানিয়ে যাত্রা শুরু করলেন মুক্তির জ্ঞানান্বেষণে, মাত্র ২৯ বছর বয়সে। জগতের দুঃখ মুক্তির জন্য সিদ্ধার্থের এই যাত্রাকে বলা হয় মহাভিনিষ্ক্রমণ। 
বোধিলাভ
দুঃখ,  দুঃখের কারণ, দুঃখের নিরোধ এবং নিরোধের উপায় সম্বন্ধে জানতে সিদ্ধার্থ তাঁর যাত্রা অব্যাহত রাখেন। প্রথমে তিনি স্বনামধণ্য তপস্বী আলাড় কালামের কাছে যান।  তাঁর শিক্ষায় মুক্তিমার্গের সন্ধান না পেয়ে  তিনি যান রামপুত্র উদ্দকের
নিকট। কিন্তু এখানেও কোনও ফল পেলেন না। এভাবে কিছু দিন যাবার পর তিনি মগধের নিরন্জনা নদীর তীরে উরুবেলা নামক স্থানে গমন করেন।
 
প্রথম দিকে তিনি তথায় খাদ্য গ্রহণ বিহীন কঠোর সাধনা করেন। কঠোর সাধনার ফলে তাঁর শরীর ক্ষয়ে যায়। কিন্তু এ তপস্যায় তিনি ভয়, লোভ ও লালসাকে অতিক্রম করে নিজের মনের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ লাভ করতে সক্ষম হননি। সহসা তিনি বুঝতে পারলেন এভাবে বোধিলাভ হবে না। কথিত আছে, এসময় দেবরাজ ইন্দ্র তিনটি তারের বীণা বাজান।
প্রথম তারের সুর ছিল অতি চিকন সুর সম্পন্ন এবং শ্রুতি মধুর নয়। মধ্যমটি কোমল এবং শ্রুতি মধুর কিন্তু শেষেরটিও শ্রুতিমধুর ছিল না। এতে তিনি বুঝতে পারলেন মধ্যম পন্থায় সঠিক পথ। যদি তিনি অনাহারে কঠোর অথবা অতি আহারে সামান্য সাধনা করেন তাতে মুক্তি অর্জিত হবে না। বুঝতে পারলেন মধ্যম পন্থায় সঠিক পথ। তাই তিনি তাই আবার খাদ্য গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলেন। সুজাতা নাম্নী এক নারীর কাছ থেকে তিনি এক পাত্র পায়সান্ন আহার করলেন। অতঃপর তিনি নদীতে স্নান করে পুনরায় ধ্যানরত হন। অবশেষে সে রাতের বৈশাখী পূর্ণিমায় তিনি বুদ্ধত্বপ্রাপ্ত হলেন। এ ঘটনাটিই বোধিলাভ নামে পরিচিত।
মহাপরিনির্বাণলাভ 
বুদ্ধত্বলাভের পর ৪৫ বৎসর তিনি ধর্মপ্রচার করেন। সমস্ত জীবন ধরে তাঁর দর্শন এবং বাণী প্রচার করে অবশেষে আনুমানিক ৫৪৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ৮০ বছর বয়সে বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে কুশীনগরে ভগবান তথাগত মহাপরিনির্বাণলাভ করেন।

 ছবি এবং তথ্যসূত্র:http://nirvanapeace.com

0 বুদ্ধের ধর্মে চিত্ত বা মন কতটা গুরুত্ত্বপূর্ণ ?

বুদ্ধের ধর্মে চিত্ত বা মন কতটা গুরুত্ত্বপূর্ণ তা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দিতে ,মারবিজয়ী জীবন্ত আরহত্ পরমপূজ্য উপগুপ্ত ভান্তের সাথে পরনির্মিত বশবর্তী দেবপুত্র মার এর একটি ঘটনা সংক্ষেপে তুলে ধরলাম:

জগতে বুদ্ধের কায়িক রুপের নিমিত্ত ধারণ করতে পারেন দুইজন । ১।মহাকাল নাগরাজ ২।দেবপুত্র মার ।অর্থাৎ এই দুইজন তাদের নিজ শরীর দিয়ে বুদ্ধের ৩২ প্রকার লক্ষণ এবং ৮০ প্রকারের অনুব্যঞ্জন সমন্বিত অতুলনীয় দেহপ্রভা প্রদর্শন করতে পারেন । যাই হোক সম্রাট অশোক যখন বুদ্ধের পরিনির্বাণের প্রায় ২৫০ বছরের ও অধিক সময় পর ,শাসন সদ্ধর্মের স্থিতি ও উন্নয়নের জন্য ৮৪ ধর্মস্কন্ধ সম্বলিত ৮৪ হাজার ধর্মচৈত্য উত্সর্গ করছিলেন ঠিক সেই সময় যাতে ধর্মন্তরায় ও পূন্যন্তরায় না হয় ,মারের উপদ্রব না হয় তার দায়িত্ত্ব দেওয়া হয়েছিলো উপগুপ্ত ভান্তকে ।উপগুপ্ত ভান্তে যথাসময়ে দেবপুত্র মারকে ঋদ্ধিশক্তি অধিষ্টান জনিত বন্ধন দিয়ে এক পর্বতের সাথে বেঁধে রাখলেন ।পরবর্তীতে অনুষ্টান শেষ হওয়ার পর বন্ধন খুলে দিলেন ।সেই সময়ে উপগুপ্ত ভান্তে মারকে বললেন আমি শাস্ত্রপাঠ দ্ধারা এবং বুদ্ধের ধর্মের চরম ও পরম সীমায় (অরহত্ মার্গফল) পৌছে সুগতের ধর্মদেহ (ধর্মকায়) দর্শন করেছি ।কিন্তু নয়ন রঞ্জন স্বরুপদেহ দেখিনি ।এই বলে মারের নিকট বুদ্ধরুপ প্রদর্শনের ইচ্ছা প্রকাশ করলেন । মার দেবতা উপগুপ্ত ভান্তের কথায় রাজী হলেন কিন্তু শর্ত একটা দিয়ে রাখলেন ,যেন কিছুতেই পূজনীয় ভান্তে মারকে বুদ্ধরুপ ধারণের পর বন্দনা না করেন ।উপগুপ্ত ভান্তে মারকে প্রতিশ্রতি দিলেন যে আমি বন্দনা করব না ।আজ মার স্বয়ং সর্ব অবয়ব ধরে বুদ্ধরুপ ধারণ করবেন এই কথা নগরের সর্বত্র প্রকাশ হওয়ার পর অগণিত নর নারী ও ভিক্ষু সংঘ ফুল ,মালা ,সুগন্ধি ,ও বিবিধ উত্কৃষ্টতর পূজোপকরণ নিয়ে উপস্থিত হলেন ।পরবর্তীতে মার শ্রদ্ধেয় উপগুপ্ত ভান্তের অভিলাষ পূরণ করার জন্য স্বীয় মাররুপ পরিত্যাগ করে বুদ্ধের সর্ব অবয়ব ,৩২মহাপুরুষ লক্ষণ ও ৮০ প্রকার অনুব্যঞ্জন এবং অপরুপ ৬ রশ্মি পরিপূর্ণ অচিন্তনীয় স্নিগ্ধ সমুজ্জ্বল প্রভাবশ্রী প্রকাশ করে ধ্যানে সমাসীন হলেন ।এতে মনে হলো যেন বুদ্ধগয়ার বোধিদ্রুপ মূলে বজ্রাসনে বুদ্ধ ধ্যানে মগ্ন । বুদ্ধের ষড়রশ্নির আলোয় আলোকিত হলো চারদিক ।আগত লোকজন বুদ্ধের অপরুপ দেহকান্তি দেখে যেমনি মোহিত হলেন তেমনি অগাধ শ্রদ্ধায় প্রাবল্যে ধূপ দীপ ,বিচিত্র পুষ্প মাল্য ,সুগন্ধদ্রব্যদি সহ বিবিধ পূজোপকরণ দিয়ে বুদ্ধরুপকে পূজা করলেন ।অন্যদিকে পূজ্য উপগুপ্ত ভান্তে স্বয়ং মারের এরুপ দৃশ্য দেখে মনে মনে চিন্তা করলেন অহো !লোভ ,দ্ধেষ ,মোহ পরায়ন মার বুদ্ধরুপ ধারণ করার পর কতই না শোভনীয় ,অনুপম ,অপরুপ ষড়রশ্মি দিব্য কান্তিময় দেহের প্রভায় জ্যোতিময় আলোয় জগত্ উদ্ভাসিত হলো । কি জানি লোভহীন ,দ্ধেষহীন ,মোহহীন তথাগত বুদ্ধ কতই না মহা বৈভব সম্পন্ন সমগ্র চক্রবাল উদ্ভাসিত করা আলোক প্রাপ্ত মহামানব ছিলেন ! পূজ্য উপগুপ্ত ভান্তে মারের এরুপ দৃশ্য দেখে আবেগ আপ্লুত হয়ে বুদ্ধরুপ প্রীতিতে বন্দনা না করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারলেন না ।উপগুপ্ত ভান্তে বন্দনা করার সাথে সাথে মার বুদ্ধরুপ পরিত্যাগ করলেন ।

এইবার আসা যাক আলোচ্য বিষয়ে । মার উপগুপ্ত ভান্তেকে বললেন প্রভু কেন আমাকে অপরাধী করলেন ।আমি কি গুণে আপনার বন্দনার পাত্র হতে পারি ? আমাকে বন্দনা করা কি উচিত হয়েছে ?কেন আপনি প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করলেন ?উপগুপ্ত ভান্তে মারের এই কথা শুনে বললেন দেখ মারপতি আমি বুদ্ধরুপ দর্শনে এতই অভিভূত হয়েছিলাম যে মনে হয়েছে শ্রীবুদ্ধের দিব্যজ্ঞানের জ্যোতিঃ যেন পুনরায় পৃথিবীতে উদিত হলো ।তাই বুদ্ধরুপ ভিত্তি করে বন্দনা করেছি তোমাকে বন্দনা করিনি ।এতে প্রতিজ্ঞা ও ভঙ্গ হয় নি । তাহলে দেখুন তো চিত্ত বা মন কতটা গুরুত্ত্বপৃর্ণ ।উপগুপ্ত ভান্তে যেমন তেমন অরহত্ নন ।বুদ্ধের বরপ্রাপ্ত অরহত্ ,ঋদ্ধিমান অরহত্ ,তিনি বন্দনা করলেন বুদ্ধরুপ কে যদিও সে বুদ্ধরুপের অন্তরালে ছিল মার যে কিনা ৫ মারের ১মার ,যার কাছ থেকে মুক্ত থাকতে চাই আমরা ।যে কিনা ধর্মানুষ্টানে অন্তরায় করতে এসেছিলো তাকেই বন্দনা করলেন অরহত্ উপগুপ্ত ভান্তে ।এর একমাত্র কারণ চিত্ত বা মন । ধর্মপদের প্রথম গাথায় আছে মন সকল ধর্মসমূহের পূর্বগামী ।কেউ যদি প্রদুষ্ট চিত্তে কিছু করে তবে দুঃখ তার ছায়া হবে আর প্রসন্ন চিত্তে কিছু করলে সুখ তার ছায়া হবে ।কাজেই আসুন চিত্ত কে বুজার চেষ্টা করি ,পাপ পূণ্যের ক্ষেত্রে চিত্তকে অগ্রগামী করি ।বুদ্ধ শুন্য কল্পে বালু কে জাদি বা চৈত্য বানিয়ে সেই বালি স্তুপ কে বুদ্ধ মনে করে পূজা বন্দনায় ও অগনিত অপ্রমেয় পুণ্য হত ।আমরা অনেক ভাগ্যবান বর্তমানে বাংলাদেশে বুদ্ধের ধাতু জাদী আছে বান্দরবানে ।কেউ যদি স্বয়ং জীবিত বুদ্ধকে পূজার ন্যায় পূজা বন্দনা করতে চান তবে বুদ্ধের ধাতু জাদীতে পূজা করুণ অপ্রমেয় অপ্রমেয় চিন্তার বাইরে পুণ্য হবে ।বুদ্ধকে বন্দনা তো করব সাথে উপগুপ্ত ভান্তেকে ও বন্দনা করব এই চিন্তা আনয়ন করুণ । জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক ।আমার ধর্মদান জনিত পূন্য দ্ধারা আমি সহ জগতের সকল প্রাণীর ৩৮ প্রকার মঙ্গল হোক । সকলের বুদ্ধগুণের প্রতি শ্রদ্ধা জাগুক ।
ছবি এবং তথ্যসূত্র:http://nirvanapeace.com
 

Tuesday, January 14, 2014

0 বুদ্ধের ব্যবহৃত ভিক্ষাপাত্র: কাবুলে ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক দল

বুদ্ধের ব্যবহৃত ভিক্ষাপাত্রটি ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করতে কাবুলে যাচ্ছেন ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ দল।
ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ দলের (এএসআই) দুইজন বিশেষজ্ঞকে বুদ্ধের ব্যবহৃত ভিক্ষাপাত্রটি পরীক্ষা এবং ভারতে এটি ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য কাবুলে পাঠানো হচ্ছে। খবর- দ্যা টাইমস্ অব ইণ্ডিয়া।
গত বছরের আগষ্টে, ভারতের এক লোক সভায় বৈশালী হতে নির্বাচিত সাংসদ আরজেডি রঘুবংশ প্রসাদ সিং বলেন, বর্তমানে ভারতের সাথে আফগানিস্তানের সুসর্ম্পক থাকায় সদিচ্ছা থাকলে বুদ্ধের এই পবিত্র ভিক্ষাপাত্রটি বৈশালীতে ফিরিয়ে আনা যায় এমনটা জানিয়ে তিনি বুদ্ধের ভিক্ষাপাত্রটি আফগানিস্তানের যাদুঘর থেকে ভারতের বৈশালীতে তার আদি জায়গায় ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব করেন।
বুদ্ধের ব্যবহৃত ভিক্ষাপাত্র: কাবুলে ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক দলসেই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে, গতকাল শনিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০১৪, এক জরুরী সভায় সাংসদ আরজেডি রঘুবংশ প্রসাদ সিংয়ের সভাপতিত্বে, মহাপরিচালক এএসআই প্রবীণ শ্রীবাস্তব, এডিজি বি. আর. মানি, পুরার্কীতি বিষয়ক মহাপরিচালক আর. এস. ফনিয়া এবং পূর্ব প্রদেশের পরিচালক ফনী কান্ত মিশরা প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপের একটি দলকে কাবুলে গিয়ে বুদ্ধের ব্যবহৃত ভিক্ষাপাত্রটি পরীক্ষা এবং ভারতে এটি ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য প্রস্তাব গৃহীত হয়।
এএসআই দিল্লি সূত্রে জানা যায়, এ কাজের জন্য মিশরা এবং জি এস খাজা, ডিরেক্টর অব এরাবিক ও ফার্সি উৎকীর্ণ লিপিবিদ্বয়কে মনোনীত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের আগষ্টে, বিবিসিকে দেয়া বক্তব্যে সাংসদ আরজেডি রঘুবংশ প্রসাদ সিং বলেন, কাবুল যাদুঘরের উচিত ঐ ভিক্ষাপাত্র ভারতকে ফিরিয়ে দেয়া, কারণ গৌতম বুদ্ধ নিজেই সেটি বৈশালিবাসীকে দান করে গিয়েছিলেন। বৈশালীবাসী যখন বুদ্ধকে কিছুতেই বিদায় দিতে চাচ্ছিল না তখন মহাপরিনির্বাণের আগে এই ভিক্ষাপাত্রটি বৈশালীবাসীকে প্রদান করেন বলে মন্ত্রী দাবী করেন। ঐ ভিক্ষাপাত্র আফগানিস্তানে নিরাপদ নয়, এমন আশংকাও ব্যক্ত করেছেন তিনি।
কারন হিসাবে তিনি বলেন, আফগানিস্থানে অতীতে তালেবান কর্তৃক বামিয়ানের বুদ্ধমূর্তি সহ অনেক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। এটিও তারা ধ্বংস করতে পারে বলে তিনি আশংকা প্রকাশ করেন।
শত শত বছর এই ভিক্ষা পাত্রটি বৈশালীতে পূজিত হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে কুশান রাজা কণিষ্কের হাত ধরে তা পুরুষপুর বা বর্তমানের পেশোয়ার এরপর কান্দাহার এবং সর্বশেষ এখন কাবুলের জাতীয় যাদুঘরে আছে।
ছবি এবং তথ্যসূত্র:http://nirvanapeace.com

0 বার্মার সোয়েডাগুন প্যাগোডাঃ গৌতম বুদ্ধের কেশধাতু সংরক্ষিত

পৃথিবীতে দু'প্রকারের আয়ু সম্যক সম্বুদ্ধ দেখতে পায়।{১} দীর্ঘায়ু ও {২} সল্পায়ু সম্পন্ন বুদ্ধ।দীর্ঘায়ু সম্পন্ন বুদ্ধগণের আয়ু লক্ষ বছর /হাজার বছর।আর সল্পায়ু সম্পন্ন বুদ্ধের আয়ু ৮০ বছর।দীর্ঘায়ু সম্পন্ন বুদ্ধগণ পরিনির্বাপিত হলে দাহ কার্য্য সমাপনের পর অস্থিধাতু সমূহ জমাটবদ্ধ হয়ে সুবর্ণ চৈত্যের আকার ধারণ করে।বিভিন্ন অংশে বিভক্ত হয়না।উনাদের অস্থিধাতুগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বন্টিত হয় না।তবে কয়েকজন বুদ্ধের ক্ষেত্রে বৈসাদৃশ্য দেখা যায়।দীর্ঘায়ু সম্পন্ন বুদ্ধগণের অস্থিধাতু কেন বিভিন্ন অংশে বিভক্ত হয় না?কারণ হলো উনারা দীর্ঘ দিন পৃথিবীতে ধর্ম প্রচারের সুযোগ পান এবং অনেক প্রাণী দীর্ঘ দিন ধরে বুদ্ধকে পূজা করতে পারেন।কাজেই আমরা বলতে পারি বার্মার সোয়েডাগুন প্যাগোডায় যারা বলেন কশ্যপ বুদ্ধের অস্থিধাতু আছে তা ভুল।আমরা জানি বুদ্ধের অস্থিধাতু সমূহ এক একটি বুদ্ধ সদৃশ।এক বুদ্ধের সময়ে অন্য এক বুদ্ধের অস্থিধাতু থাকা মানে দু'জন বুদ্ধ একসময়ে থাকা।পৃথিবী কখনো দু'জন সম্যক সম্বুদ্ধের ভর ধারণ করতে পারেন না।সেহেতু বার্মার সোয়েডাগুন প্যাগোডায় কেবল মাত্র গৌতম বুদ্ধের কেশধাতু আছে অন্য কোন বুদ্ধের কোন অস্থিধাতু নেই।আমরা এ ও জানি যে,গৌতম বুদ্ধের আয়ু ছিল ৮০ বছর.উনি কেবল ৪৫ বছর ধর্ম প্রচার করার সুযোগ পান। এটি সল্পায়ু।তাই সকলের মঙ্গলার্থে অধিষ্ঠান করলেন যে উনার শারীরিক ধাতু সমূহ বিভাজন হোক। সে নিরিখে আমরা বুদ্ধের অস্থি ধাতু সমূহকে বন্দনা করার সুযোগ পেয়েছি। এরপর পৃথিবী ধ্বংসের পূর্বে বুদ্ধের সকল অস্থিধাতু সমূহ এক হয়ে বুদ্ধরূপ ধারণ করে দেশনা প্রদান করবেন এবং আপনা-আপনি আগুণ জ্বেলে সমস্ত ধাতু সমূহ পৃথিবী থেকে অন্তর্নিহিত হবে।এতে বুঝা যায় পৃথিবী ধ্বংস হলে অস্থিধাতুর ও বিলোপ সাধন হয়।অবধারিত ভাবে প্রশ্ন এসে যায় কেমন করে বার্মার সোয়েডাগুন প্যাগোডায় কাশ্যপ বুদ্ধের অস্থি ধাতু/কারো কারো মতে কেশধাতু সংরক্ষিত থাকতে পারে?তবে এ বাক্য নির্দ্বিধায় মেনে নিতে হয় বার্মার সোয়েডাগুন প্যাগোডায় আমাদের গৌতম বুদ্ধের কেশধাতু সংরক্ষিত আছে।
ছবি এবং তথ্যসূত্র:http://nirvanapeace.com

0 পারাজিকাঃ পাপ

কোন মানব  উপসম্পদা লাভে ভিক্ষু পর্যায়ে উন্নীত হলে তখন হতে তিনি পাতিমোক্‌খান্তর্গত ২২৭টি শীল যথারীতি কঠোরভাবে পলনে সচেষ্ট হন। এ নীতিগুলির চারটি অপরাধ হচ্ছে পারাজিকা। বিনয়পিটকস্থ সঙ্ঘ পরিচালনার ২২৭টি পাতিমোক্‌খশীলের মধ্যে বুদ্ধ যে চারটি বিধান ভিক্ষু সঙ্ঘকে কঠোরভাবে পলন করতে নির্দেশ দিয়েছেন, সেই আচরণগুলিকে পারাজিকা ধর্ম্মা বলা হয়। থের বা স্থবিরবাদী বিনয়পিটক অনুসারে ব্রহ্মচর্য জীবন থেকে স্খলন বা পরাজয় অর্থে পারাজিকা শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।
পারাজিকা অপরাধ চারটি। এ অপরাধ চতুষ্টয়ে অপরাধী সর্বদাই সভ্য সমাজ কর্তৃক ঘৃণিত। এ চতুবিধ অপরাধ বা পারাজিকা চতুষ্টয় হলো,
ক) যৌনাচার,
খ) অদত্ত দ্রব্য গ্রহণ,
গ) নরহত্যা,
ঘ) অর্হত্ব বা অন্যান্য অলৌকিক ক্ষমতা প্রাপ্তির মিথ্যা দাবি।
মূলত এ চারটি কঠোর পারাজিকা বিধান বিমুক্তি বা মোক্ষ লাভের পক্ষে মহাঅন্তরায়কর। মানবের দৈহিক, বাচনিক ও মানসিক বুশুদ্ধিকরণই এ বিধান চারটির মূল লক্ষ্য। এ ত্রিবিধ বিশুদ্ধি অর্জিত না হলে মানবের মনোজগত বিমুক্তি বা মোক্ষলাভের পথে অগ্রসর হতে পারে না। জীবনচক্র বোধের মহান লক্ষ্যে মানবের ভিক্ষুত্ব গ্রহণ। এ মূল লক্ষ্যে পরিপূর্ণতা অর্জনার্থে প্রত্যেক ভিক্ষু থের বা স্থবিরবাদী এ চারটি পারাজিকা শিক্ষাপদ সর্বদা সযত্নে রক্ষায় তৎপর।
যদি কোন উপসম্পন্না ভিক্ষু এ পারাজিকা বিধান চারটির মধ্যে এক বা একাধিক লঙ্ঘন করে থাকেন এবং সে বিশয়ে সঙ্ঘের নিকট যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ ইত্যাদি থাকে তবে জরুরী সঙ্ঘ সম্মিলন আহ্বানের মাধ্যমে সেই অপরাধী ভিক্ষুকে সঙ্ঘ থেকে বহিস্কার করা হয় অথবা অবস্থাভেদে অর্থাৎ অপরাধের গুরুত্বানুসারে সঙ্ঘ অন্যান্য শাস্তিও প্রদান করতে পারেন। বিনয়বিধানানুসারে এ সব সঙ্ঘকর্মে সঙ্ঘই সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। সঙ্ঘের এ সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগকে গণতান্ত্রিক রীতির উৎস বলা যেথে পারে।
ছবি এবং তথ্যসূত্র:http://www.nirvanapeace.com/

Friday, December 13, 2013

0 আজ ঢাকাস্থ মাসিক সর্বজনীন অষ্টপরিস্কারসহ সংঘদান অনুষ্ঠিত

রাজধানী ঢাকাস্থ উপাসক-উপাসিকাবৃন্দের উদ্যোগে আজ ১৩ ডিসেম্বর,২০১৩ ইং, শুক্রবার সকাল ১০ টায় ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে ১২তম মাসিক সর্বজনীন অষ্টপরিস্কারসহ সংঘদানানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হ। উক্ত দানানুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি এবং বিশ্ব বৌদ্ধ সৌভ্রাতৃত্ব সংঘের সহ-সভাপতি, একুশে পদকে ভূষিত, মানবতাবাদী ব্যক্তিত্বমাননীয় সংঘনায়ক শুদ্ধানন্দ মহাথের। এই দানানুষ্ঠানের অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের মহাসচিব ড. প্রণব কুমার বড়ুয়া, সহ-সভাপতি রনজিত কুমার বড়ুয়া প্রমুখ। মাসিক সর্বজনীন অষ্টপরিস্কারসহ সংঘদানানুষ্ঠান উৎসর্গ ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেন ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে আবাসিক ভিক্ষু শ্রীমৎ আনন্দ থের। উদ্যোক্তা এবং বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের ধর্ম ও সংস্কৃতি সচিব রীটন কান্তি বড়ুয়া প্রারম্ভিক বক্তব্য প্রদান করেন এবং সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। সংঘদানে বিপুল সংখ্যক উপাসক-উপাসিকা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি এবং তথ্যসূত্র:http://www.nirvanapeace.com/

Thursday, December 12, 2013

0 চক্রবর্তী রাজা প্রসঙ্গ

একা যিনি এ পৃথিবী করেন শাসন
পুণ্য বলে স্বর্গে তিনি করেন গমন
যদি ও বা ত্রিলোকের অধিশ্বর হন
স্রোতাপত্তি ফল সম হবেনা কখন ...।

__ধর্মপদ
তথাগত ব্যতীত অদ্বিতীয় যেজন এ পৃথিবী শাসন করবার ক্ষমতা রাখেন তিনি হলেন চক্রবর্তী রাজা।চক্রবর্তী রাজা-সাধারণ রাজা,মহারাজা থেকে অধিক পুণ্যবান ও ক্ষমতাশালী হয়ে থাকেন।আর চক্রবর্তী রাজা যেকোন সময় জন্ম গ্রহণ করেন না।ঋষি কালদেবল যখন পূজ্য সিদ্ধার্থকে আশীর্বাদ করতে এসেছিলেন তখন বলেছিলেন-সিদ্ধার্থ গৃহে থাকলে চক্রবর্তী রাজা হবেন,আর যদি গৃহ ত্যাগ করেন তবে মহাপ্রজ্ঞাবান হবেন।অবশেষে পূজ্য সিদ্ধার্থ মহাভিনিষ্ক্রমণ করে তথাগত হয়ে অনন্ত চক্রবালের অধিশ্বর হন।শেষার্ধে তথাগতের মহাপরিনির্বানের সময় সন্নিকট হলে ভন্তে আনন্দ জানতে চাইলেন-প্রভু তথাগতের মহাপরিনির্বাণের পর দেহ কিভাবে সৎকার করা উচিত? তথাগত বললেন-চক্রবর্তী রাজার মৃত্যুর পর তার দেহ যেভাবে সৎকার করা হয় সেভাবে তথাগতের দেহ সৎকার করা উচিত।এ দুটি বাণী দ্বারা আমরা বুঝতে পারি যে,চক্রবর্তী রাজার অবস্থান কত উচ্চস্থরে।প্রভেদ এই যে,তথগত যখন এ ধরাধামে অবস্থান করেন তখন চক্রবর্তী রাজা থাকেন না।কেননা বনে সিংহরাজ থাকেন একটি,দুইটি নয়।আর যে সময় চক্রবর্তী রাজা এ ধরাধামে থাকেন তখন তথাগত এ ধরাধামে আভির্ভাব হন না।

পাদটীকাঃ যে কারণে আমার এ চক্রবর্তী রাজা নিয়ে ভাবনা-এক লেখায় পেয়েছি গৌতম বুদ্ধ বোধিসত্ত্ব অবস্থায় সুজাত বুদ্ধের সময়ে চক্রবর্তী রাজা ছিলেন। বিষয়টা ভাবলাম এভাবে হয়ত সুজাত সম্যক সম্বুদ্ধ যখন এ ধরাধামে আসেননি কিংবা সুজাত সম্যক সম্বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের পরে বোধিসত্ত্ব(গৌতম বুদ্ধ)চক্রবর্তী রাজা হন। তবু ও মনে প্রশ্ন থেকে যায়? বিজ্ঞজন মন্তব্যদানে বাধীত করবেন।

Written by  অজিত বড়ুয়া
ছবি এবং তথ্যসূত্র:http://www.nirvanapeace.com/

0 বৌদ্ধধর্ম অনুশীলনের ধর্ম, আচরণের ধর্ম এবং বাস্তব দর্শনের ধর্ম

ধর্ম চর্চা নিয়ে বলতে গেলে সর্বপ্রথমে ধর্ম শব্দের তাৎপর্য নিয়ে বিবেচনাকরাটা সমীচীন । ইংরেজি Religion শব্দের উৎপত্তি Latin শব্দ Religio (n) / Religare (v) থেকে। এর অর্থ সম্পর্ক (relation), বন্ধন (binding), যোগাযোগ (connection) । বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, যে সকল ধর্ম ঈশ্বর, সৃষ্টিকর্তা-রপ্রতি বিশ্বাস রাখে (Atheist), তারা তাদের দৈনন্দিন আচার-আচরন ওঅনুষ্ঠানাদির মধ্যদিয়ে সেই সৃষ্টিকর্তার সাথে একটা সম্পর্ক কিম্বা যোগাযোগকরার চেষ্টা করে। এই দৃষ্টিকোণ দিয়ে বিবেচনা করলে Religion শব্দের উৎপত্তিরযথার্থতা যাচাই করা যায় । এখন প্রশ্ন হছে, যেসব ধর্ম কিম্বা মতবাদ ঈশ্বরসম্পর্কে উদাসীন কিম্বা অস্তিত্ব স্বীকার করেনা (atheist, যেমন বৌদ্ধধর্ম), সেসব মতবাদকে কি ধর্ম বলা যাবে না? গৌতম বুদ্ধের অনুসারীরা তাঁর দেশিতচতুরার্য সত্যের মূল কথা “দুঃখ” থেকে মুক্তি পাবার লক্ষ্যে আর্য অষ্টাঙ্গিকমার্গ অনুশীলন ও পালন করে নির্বাণ লাভের প্রয়াস করে। অর্থাৎ বৌদ্ধরা তাদেরদৈনন্দিন জীবন যাত্রার মাধ্যমে বুদ্ধের দেশিত বাণী অনুসরণ করে নির্বাণলাভের সাথে একটা সম্পর্ক সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা চালায় বলে বৌদ্ধ ধর্মকেধর্ম বলে অবিহিত করা যায়।আবার বাংলায় “ধর্ম” বলতে আমরা বুঝি – কোনপ্রাণী বা বস্তুর সহজাত প্রবৃত্তি বা গুণগত বৈশিষ্ট্য এবং সেই হিসেবেবিভিন্ন প্রাণী, বস্তু কিম্বা ধাতুকে আমরা সংজ্ঞায়িত করি । এ সংজ্ঞায় আমরামানুষের ধর্ম বলতে কি বুঝি? আমাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও গুণগত মানই বাকিরূপ হওয়া উচিৎ, তা ভেবে দেখার বিষয় ।বুদ্ধ মানুষের মনুষ্যত্ব বিকাশের এবং আত্মশুদ্ধির জন্য ব্রহ্ম বিহারের (sublime state) কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন । মানুষের গুণগত মান উন্নয়ন ও আত্মশুদ্ধির জন্য মৈত্রী (loving kindness), করুণা (compassion), মুদিতা (altruistic or sympathetic joy), ও উপেক্ষা (equanimity), এই চারি প্রকার ব্রহ্ম বিহার-এর অনুশীলনকরা একান্ত অপরিহার্য । অন্যের সুখে আনন্দিত কিম্বা সুখ প্রকাশ করা (মুদিতা) যেমন উন্নত মনের পরিচায়ক তেমনি যা যেমন তা ঠিক তেমনি ভাবে দেখা (উপেক্ষা) অর্থাৎ সুখে অধিক বিমোহিত না হয়ে কিম্বা দুঃখে মোটেই কাতর বাবিচলিত না হয়ে স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিয়ে একে চিরন্তন সত্য বলে মনে করামানসিক উৎকর্ষতার পরিচায়ক ।চতুরার্য সত্যের “দুঃখ” শব্দটা যেমনবাংলায় কষ্ট বলে ব্যাখ্যা করা হয়, তেমনি ইংরেজিতে এর আক্ষরিক অনুবাদ করাহয়েছে “sorrows” বলে । এ কারণে বুদ্ধধর্মকে অনেকে ‘দুঃখবাদ’ বা নৈরাশ্যবাদী (pessimistic) ধর্ম বলে আখ্যায়িত করে । বস্থুত, বুদ্ধ “দুঃখ” শব্দটা দিয়েবোঝাতে চেয়েছেন – নশ্বর কিম্বা ক্ষণস্থায়ী (impermanence), অসম্পূর্ণ (imperfection), শূন্যতা (emptiness) ইত্যাদি ধারণার মাধ্যমে । বুদ্ধ যেমনঅতিরিক্ত আশা বা আতিশয্যের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর দেশিত ধর্মের দিকে কাউকেআকৃষ্ট করাতে চাননি (optimistic), তেমনি নৈরাশ্যবাদী বলে কাউকে হতাশ করতেওচাননি । বুদ্ধ যা যেমন সেটাকে ঠিক সেভাবেই দেখতে বলেছেন (yathâ bhûtaṃ) ।এক কথায়, বুদ্ধধর্ম pessimistic কিম্বা optimistic ধর্ম নয় বরং এটা একটা realistic ধর্ম । এই প্রসঙ্গে কোন কোন বৌদ্ধমনীষা উদাহরণ স্বরূপ বলেছেন, কোন ডাক্তার এক রুগীকে দেখে রোগের প্রকারকে অতিরঞ্জিত করে সেই রোগ সাড়ার নয়বলে রুগীকে জবাব দিয়ে দেন; আবার অন্য ডাক্তার নিজের অজ্ঞতা বশত ওই রুগীরোগবিহীন বলে কোন চিকিৎসার প্রয়োজন নেই বলে উড়িয়ে দেন । এক্ষেত্রে প্রথমডাক্তারকে pessimistic এবং পরের জনকে optimistic বলা যায় । এদের দুজনই খুবইভয়ংকর । অপরপক্ষে, তৃতীয় ডাক্তার সঠিক রোগ নির্ণয় করে, এর কারণ এবং ধরণবুঝে এই রোগ নিরাময় যোগ্য বলে স্থির করে সঠিক অষুধ দিয়ে রোগ সারিয়ে রোগীকেরোগমুক্ত করিয়ে জীবন বাঁচিয়ে দেন । ইনি হচ্ছেন একজন realistic ডাক্তার ।বুদ্ধ মানবজীবনের দুঃখ, অশান্তি ও কষ্টের মূল সমস্যা কোথায় তার সন্ধানদিয়েছেন চতুরার্য সত্য সন্ধানের মাধ্যমে এবং এই অশান্তি থেকে মুক্তির পথ (মার্গ) দেখিয়েছেন আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ (eightfold path) অনুসরণের মধ্যদিয়ে । তাই বুদ্ধ একজন realistic ডাক্তার এবং বৌদ্ধধর্ম একটি realistic ধর্ম ।
লক্ষ্যনীয় বিষয় যে, এই আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গের একটাক্রমিক বিকাশ আছে এবং এই আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ হল চতুরার্য সত্যের চতুর্থসত্য, “দুঃখ মুক্তির উপায় (মার্গ বা পথ)” । প্রথম মার্গ, ‘সম্যক দৃষ্টি’ হলচারটি আর্যসত্য সম্পর্কে যথার্থ জ্ঞান । ‘সম্যক দৃষ্টি’ দিয়ে ‘দুঃখ’ (চতুরার্য সত্যের প্রথম সত্য)-কে অনুধাবন করে সর্বপ্রথম আমাদের ‘অবিদ্যা’ বা ‘অজ্ঞতা্’-কে জয় করতে হবে । কারণ, এই অজ্ঞতা্ বা অবিদ্যা-কেই বুদ্ধদুঃখের প্রধান উৎস হিসাবে চিহ্নিত করেছেন । এই অজ্ঞতা্র কারণেই মানুষবস্তুর প্রতি আকৃষ্ট হয় ও এতে আসক্তি জন্মে । এর ফলে আমরা ভোগবিলাস, কামনা-বাসনা, মোহ, হিংসা, রাগ-দ্বেষ এসবে লিপ্ত হয়ে পড়ি । ‘সম্যক সংকল্প’ (দ্বিতীয় মার্গ) অনুসরণ করে এসব আসক্তি থেকে বিরত থাকতে হবে । এভাবে আটপ্রকার মার্গগুলো ক্রম অনুসারে অনুসরণ করে ‘সম্যক সমাধি’-র (সর্বশেষ বাঅষ্টম মার্গ) মধ্য দিয়ে আমরা নর্বাণ পথযাত্রী হতে পারি ।বৌদ্ধধর্ম অনুশীলনের ধর্ম, আচরণের ধর্ম (âchariya dhamma), দৈনন্দিন জীবনধারণের (a way of life) ধর্ম, ব্যবহারের ধর্ম, এবং বাস্তব দর্শনের ধর্ম ।এই ধর্মে অলৌকিক, কিম্বা অপার্থিব কোন কিছুরই স্থান নেই । যা বাস্তব, যাসত্য, যা চোখের সামনে দেখা যায় কিম্বা উপলব্দি করা যায় তাই বৌদ্ধধর্ম ।বুদ্ধ তাঁর দেশিত ধর্ম সম্পর্কে বলেছেন, ‘এহি পসসিক’ – ‘এসো এবং দেখো’, এসোএবং বিশ্বাস করো নয় । বুদ্ধ তাঁর কালাম (Kâlâma) সুত্রে বলেছেন, অন্ধভাবেকোন কিছু বিশ্বাস না করতে, শোনা কথায় কান না দিয়ে সত্যতা বিচার করে তাগ্রহণ করতে, যুগ যুগ ধরে যে মতবাদ চলে আসছে কিম্বা বুদ্ধ বলেছেন বলেই যেবিশ্বাস করতে হবে বা মেনে নিতে হবে তা নয়। যুক্তিতর্ক ও বাস্তবতারভিত্তিতেই সত্যকে গ্রহণ করতে বলেছেন তিনি ।

সহযোগী গ্রন্থঃ
১. বৌদ্ধ ধর্ম ও দর্শন – ড. দ্বীজেন বড়ুয়া
২. ড. বসুমিত্র বড়ুয়ার গবেষনালব্দ Article এর খন্ডিত অংশ ।
৩. Buddhism & Comical World এর ২৭ পৃষ্ঠার গুরত্বপুর্ন অংশ ।
Written by  সুনয়ন বড়ুয়া (এস.নয়ন )

ছবি এবং তথ্যসূত্র:http://www.nirvanapeace.com

Sunday, December 8, 2013

0 নালন্দার ধ্বংস ধর্মান্ধদের চোখে ধর্মীয় বিজয়

“নালন্দা” শব্দটি এসেছে “নালম” এবং “দা” থেকে। “নালম” শব্দের অর্থ পদ্ম ফুল যা জ্ঞানের প্রতীক রূপে প্রকাশ করা হয়েছে আর “দা” দিয়ে বুঝানো হয়েছে দান করা। তার মানে “নালন্দা” শব্দের অর্থ দাঁড়ায় “জ্ঞান দানকারী”, প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৮০০ বছর ধরে জ্ঞান বিতরনের মত দুরূহ কাজটি করে গেছে নিরলসভাবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ভারতের বিহার রাজ্যের রাজধানী পাটনা থেকে ৫৫ মাইল দক্ষিণ পূর্ব দিকে অবস্থিত “বড়গাঁও” গ্রামের পাশেই। পাটনার আদি নাম পাটালিপুত্র। দুই হাজার তিনশ বছর আগে মৌর্যদের রাজধানী ছিল এই পাটালিপুত্র। সম্রাট অশোক এখান থেকেই রাজ্য পরিচালনা করতেন বলে জনশ্রুতি আছে।

ভাবতে অবাক লাগে তৎকালীন সময়ে নালন্দায় বিদ্যা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১০,০০০ তাদের শিক্ষাদান করতেন প্রায় আরো ২,০০০ শিক্ষক। গড়ে প্রতি ৫ জন ছাত্রের জন্য ১ জন শিক্ষক । কত বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলে এত বিপুল সংখ্যক ছাত্রের বিদ্যা দান সম্ভব তাও আবার থাকা খাওয়ার সুব্যবস্থাসহ, ভেবে সত্যি অবাক না হয়ে উপায় নেই। বৌদ্ধ ধর্মের পাশাপাশি বেধ, বিতর্ক, দর্শন, যুক্তিবিদ্যা, ব্যাকরণ, সাহিত্য, গণিত, জ্যোতিষ বিদ্যা, শিল্প কলা, চিকিৎসাশাস্ত্র সহ তৎকালীন সর্বোচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থার উপযোগী আরো বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে নিয়মিত পাঠ দান চলত এখানে। শিক্ষকদের পাঠ দান আর ছাত্রদের পাঠ গ্রহণে সর্বদা মুখরিত থাকত এই বিদ্যাপীঠ। নালন্দার সুশিক্ষার খ্যাতির সুবাতাস এতটাই ছড়িয়ে পড়েছিল যে অনুন্নত-প্রতিকুল এবরো-থেবরো যোগাযোগ ব্যবস্থাও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি সুদূর তিব্বত, চীন, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, পারস্য, গ্রীস, তুরষ্ক থেকে ছুটে আসা বিদ্যা অনুরাগীদের।

নালন্দা বেশ কয়েকবার বহিঃশত্রুর দ্বারা আক্রমণের মুখে পড়ে। যতদূর জানা যায় সেই সংখ্যাটা মোট তিনবার। প্রথমবার স্কন্দগুপ্তের সময়ে (৪৫৫-৪৬৭ খৃষ্টাব্দে) মিহিরাকুলার নেতৃত্বে মধ্য এশিয়ার যুদ্ধবাজ হানাদের দ্বারা। উল্লেখ্য মিহিরকুলার নেতৃত্বে হানারা ছিল প্রচণ্ড রকমের বৌদ্ধ-বিদ্বেষী। বৌদ্ধ ছাত্র ও ধর্মগুরুদের হত্যা করা হয় নির্মমভাবে। স্কন্দগুপ্ত ও তার পরবর্তী বংশধরেরা একে পূণর্গঠন করেন।

প্রায় দেড় শতাব্দী পরে আবার ধ্বংসের মুখে পড়ে। আর তা হয় বাংলার শাসক শশাঙ্কের দ্বারা। শশাঙ্ক ছিলেন বাংলার অন্তর্গত গৌড়'র রাজা। তার রাজধানী ছিল আজকের মুর্শিদাবাদ। রাজা হর্ষবর্ধনের সাথে তার বিরোধ ও ধর্মবিশ্বাস এই ধ্বংসযজ্ঞে প্রভাব বিস্তার করে। রাজা হর্ষবধন প্রথমদিকে শৈব (শিবকে সর্বোচ্চ দেবতা মানা) ধর্মের অনুসারী হলেও বৌদ্ধ ধর্মের একজন পৃষ্ঠপোষকে পরিণত হন। কথিত আছে, তিনি সেই সময়ে ধীরে ধীরে গজিয়ে উঠা ব্রাহ্মণদের বিদ্রোহও দমন করেছিলেন। অন্যদিকে রাজা শশাঙ্ক ছিলেন ব্রাহ্মণ্য ধর্মের একজন শক্তিশালী পৃষ্ঠপোষক ও এর একান্ত অনুরাগী। উল্লেখ্য রাজা শশাঙ্কের সাথে বুদ্ধের অনুরুক্ত রাজা হর্ষবর্ধনের সবসময় শত্রুতা বিরাজমান ছিল এবং খুব বড় একটি যুদ্ধও হয়েছিল। রাজা শশাঙ্ক যখন মগধে প্রবেশ করেন তখন বৌদ্ধদের পবিত্র তীর্থ স্থানগুলোকে ধ্বংস করেন, খণ্ড-বিখণ্ড করেন বুদ্ধের ‘পদচিহ্ন’কে। বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি তার বিদ্বেষ এত গভীরে যে তিনি বৌদ্ধদের প্রধান ধর্মীয় তীর্থস্থান বুদ্ধগয়াকে এমনভাবে ধ্বংস করেন যাতে এর আর কিছু অবশিষ্ট না থাকে । হিউয়েন সাঙ এভাবে বর্ণনা করেছেন (চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ ৬২৩ সালে গুপ্ত রাজাদের শাসনামলয়ে নালন্দা ভ্রমণ করেন): Sasanka-raja, being a believer in heresy, slandered the religion of Buddha and through envy destroyed the convents and cut down the Bodhi tree (at Buddha Gaya), digging it up to the very springs of the earth; but yet be did not get to the bottom of the roots. Then he burnt it with fire and sprinkled it with the juice of sugar-cane, desiring to destroy them entirely, and not leave a trace of it behind. Such was Sasanka's hatred towards Buddhism. হর্ষবর্ধন পরে রাজা শশাঙ্কের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করেন ও শেষপর্যন্ত বাংলার কিয়দংশ করায়ত্ত করেন। তিনি নালন্দাকে পূনর্গঠনে বিশেষভাবে ভূমিকা রাখেন।

তৃ্তীয়বার শত শত বছর ধরে অবদান রেখে আসা একটি সভ্য, উন্নত জাতি তৈরী ও জ্ঞান উৎপাদনকারী নিরীহ এই প্রতিষ্ঠানটি ১১৯৩ খ্রষ্টাব্দে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী আক্রমন করে ধ্বংস করে ফেলেন। তার আক্রমনের বর্বরতা এত ভয়াবহ আকারে ছিল এ সম্পর্কে পারস্য ইতিহাসবিদ মিনহাজ তাঁর “তাবাকাতে নাসিরি” গ্রন্থে লিখেছেন “হাজার হাজার বৌদ্ধ ভিক্ষুকে আগুনে পুড়িয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে সেখানে ইসলাম প্রচারের চেষ্টা করেন খিলজী” এরপর আগুন লাগিয়ে দেন লাইব্রেরীর ভবন গুলোতে। লাইব্রেরীতে বইয়ের পরিমান এত বেশী ছিল যে কয়েক মাস সময় লেগেছিল সেই মহা মূল্যবান বই গুলো পুড়ে ছাই ভষ্ম হতে(জনশ্রুতি আছে ছয় মাস) খিলজী শুধু নালন্দাকে পুড়িয়ে ছাই করেন নি, একই সাথে পুড়িয়ে ছাই করেছেন একটি জাতির সভ্যতা, ইতিহাস, প্রাচীন জ্ঞান বিজ্ঞানের অমূল্য বই যা থেকে আমরা জানতে পারতাম সে যুগের ভারত বর্ষের শিক্ষার অবকাঠামো, তৎকালীন সামাজিক-সাংষ্কৃতিক অবস্থা ও প্রাচীন জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতি সম্পর্কে। জাতি হিসাবেও হয়তো আমাদের পিছিয়ে দিয়েছে সহস্র বছর। সেদিন তার ধারালো তরবারির নিষ্ঠুর আঘাতে ফিনকি দিয়ে ছোটা রক্ত বন্যার স্রোতে ভেসে যাওয়া নিরস্ত্র মানুষের আর্ত চিৎকারে ও জীবন্ত মানুষ পোড়া গন্ধের সাথে বাতাসে ভেসে আসা বাচঁতে চাওয়া ঝলসানো সাধারণ মানুষগুলোর করুণ আর্তনাদে স্তব্ধ হয়েছিল একটি সভ্য জাতির অগ্রযাত্রা। খিলজীর এই পাশবিক নিষ্ঠুর বর্বরতাও পরিচিতি পায় এক শ্রেণীর ধর্মান্ধদের চোখে ধর্মীয় বিজয় হিসেবে!

এই পোড়া ভগ্ন স্তুপ থেকে নালন্দাকে আবারো মাথা তুলে দাঁড় করানোর শেষ চেষ্টা চালিয়েছিলেন মুদিত ভদ্র নামে এক বৌদ্ধ ভিক্খু কিন্তু এইবার পুনঃরায় তাতে আগুন লাগিয়ে দেয় ঈর্ষার আগুনে জ্বলতে থাকা দুই ক্ষু্ব্ধ ধর্মান্ধ ব্রাহ্মন। এখানে আবারো ঘটে আরেক সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয় বিজয়!
ছবি এবং তথ্যসূত্র: www.facebook.com/স্বাধীন চিন্তা-চেতনা ও মানব কল্যাণে বৌদ্ধধর্ম
 

Tuesday, December 3, 2013

0 বিশ্বমানব বুদ্ধ গুণে মুগ্ধ রবীন্দ্রনাথ

বুদ্ধদেব নামের গ্রন্থটি মূলত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিভিন্ন সময়ে বুদ্ধকে নিয়ে লেখার সংকলন, বইটির প্রথম লাইন হচ্ছে- আমি যাকে অন্তরের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব বলে উপলব্ধি করি আজ এই বৈশাখী পূর্ণিমায় তার জন্মোৎসবে আমার প্রণাম নিবেদন করতে এসেছি।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বমানবের অনন্য উচ্চতায় আরোহণকারী গৌতম বুদ্ধের বন্দনায় মেতে উঠে আরো লিখেছেন- তিনি তার সব-কিছু ত্যাগ করেছিলেন দীনতম মূর্খতম মানুষেরও জন্য। তার সেই তপস্যার মধ্যে ছিল নির্বিচারে সকল দেশের সকল মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা।

এভাবে বিশ্বকবি তার ঐন্দ্রজালিক ভাষায় উচ্ছসিত উপমা আর মুগ্ধতার জাল বুনেই থেমে যান নি বরং রীতিমত যুক্তির কষ্টিপাথর দিয়ে যাচাই করে দেখিয়েছেন কেন বুদ্ধকে বিশ্বমানব বলা হয় এবং কেন তাঁর বাণী সর্বজনগ্রাহ্য হবে। বিশেষ করে কবি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছেন বারংবার সেই ভেদাভেদমুক্ত সাম্যবাদী সমাজ ব্যবস্থার প্রচলনের চেষ্টার, উল্লেখ করেছেন বুদ্ধের আবির্ভাবে- সত্যের বন্যায় বর্ণের বেড়া দিলে ভাসিয়ে।

বিশ্বের সব মানুষ যে সমান, বহু যুগ ধরে চলতে থাকা জাত-পাত, ভেদাভেদ যে কেবল শোষণকারী একটা সমাজের কুৎসিত চক্রান্ত তার বিরুদ্ধেই যেন মহাস্ত্র হয়ে এল বুদ্ধের দর্শন। বাসেট্ঠ সূত্রে বুদ্ধ দেশনা করেছেন- “জাতি হিসেবে মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্রের পদচিহ্ন একই রূপ। হাতি, ঘোড়া, বাঘ এরূপ চতুষ্পদ প্রাণীদের মতো মানুষে মানুষে দৈহিক গঠনে কোনো পার্থক্য দেখা যায় না”।

বুদ্ধের সম্পর্কে কবি গুরু আরো লিখেছেন- এত বড় রাজা কি জগতে আর কোনোদিন দেখা দিয়েছে! বর্ণে বর্ণে, জাতিতে জাতিতে, অপবিত্র ভেদবুদ্ধির নিষ্ঠুর মূঢ়তা ধর্মের নামে আজ রক্তে পঙ্কিল করে তুলেছে এই ধরাতল, পরস্পর হিংসার চেয়ে সাংঘাতিক পরস্পর ঘৃণার মানুষ এখানে পদে পদে অপমানিত। সর্বজীবে মৈত্রীকে যিনি মুক্তির পথ বলে ঘোষণা করেছিলেন সেই তারই বাণীকে আজ উৎকণ্ঠিত হয়ে কামনা করি এই ভাতৃ বিদ্বেষ কলুষিত হতভাগ্য দেশে।


(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বুদ্ধদেব গ্রন্থ হতে)
 

0 ‘অষ্টাঙ্গিক মার্গ’

(ক) সম্যক জ্ঞান বা প্রজ্ঞা (knowledge) :
(১) প্রথম অঙ্গ : সম্যক দৃষ্টি (Right Views) : আর্যসত্য সম্মন্ধে অর্থাৎ দুঃখ, দুঃখের হেতু এবং তার নিরোধ মার্গের যথার্থ জ্ঞান ও উপলব্ধিকে সম্যক দৃষ্টি বলা হয়েছে। অবিদ্যা যেমন ভবচক্রের মূল কারণ, সম্যক দৃষ্টিও তেমনি মুক্তিলাভের প্রধান কারণ।
বুদ্ধ দুঃখের মূল কারণকে অবিদ্যা বলেছেন। অবিদ্যার দরুন মিথ্যাদৃষ্টি (wrong views) উদ্ভূত হয়। মিথ্যাদৃষ্টির প্রাবল্যের কারণে অবাস্তবিক বস্তুকে বাস্তবিক ভাবা হয়। যেমন যা আত্মা নয় তাকে আত্মা ভাবা। মিথ্যাদৃষ্টির প্রভাবে মানুষ নশ্বর বিশ্বকে অবিনাশী এবং দুঃখময় অনুভূতিকে সুখময় ভাবে। মিথ্যাদৃষ্টির নাশ সম্যগ্দৃষ্টিতে সম্ভব। সেকারণে বুদ্ধ সম্যক দৃষ্টিকে অষ্টাঙ্গিক মার্গের প্রথম সোপান বলেছেন। সম্যক দৃষ্টি হচ্ছে বস্তুর যথার্থ স্বরূপকে জানা। সম্যক দৃষ্টি হচ্ছে চারটি আর্যসত্যের যথার্থ জ্ঞান, যা মানুষকে নির্বাণের দিকে নিয়ে যায়। আত্মা ও বিশ্ব সম্মন্ধীয় দার্শনিক বিচার মানবকে নির্বাণপ্রাপ্তিতে বাধা দেয়। অতএব দার্শনিক বিচারের চিন্তা না করে নির্বাণহেতু চারটি আর্যসত্যের মনন হচ্ছে অত্যন্ত আবশ্যক।
.
(২) দ্বিতীয় অঙ্গ : সম্যক সংকল্প (Right Resolve) : মুক্তিলাভের জন্য দৃঢ় সংকল্প থাকা প্রয়োজন। সম্যক দৃষ্টি সর্বপ্রথম সংকল্পে রূপান্তরিত হয়। বুদ্ধের চারটি আর্যসত্যের নিজ জীবনে পালন করার দৃঢ় নিশ্চয়কে সম্যক সংকল্প বলে। আর্যসত্যের জ্ঞানে মানুষ নিজেকে সার্থক করতে পারে যদি সে অনুসারে জীবনযাপন করে। তাই নির্বাণের আদর্শকে ধারণ করতে সাধককে ঐন্দ্রিয় বিষয় থেকে দূরে থাকতে হয়, অন্যের প্রতি দ্বেষ ও হিংসার বিচারকে ত্যাগ করতে দৃঢ় সংকল্প হতে হয়। মোট কথা যা অশুভ তা না করার সংকল্প হচ্ছে সম্যক সংকল্প। এতে ত্যাগ ও পরোপকারের ভাবনা নিহিত থাকে। এই বৃত্তিগুলোর অনুশীলন করতে করতে ভোগতৃষ্ণা দূর হয় এবং মুক্তিলাভের সংকল্প দৃঢ় হয়।
.
(খ) সম্যক আচার বা শীল (conduct) :
(৩) তৃতীয় অঙ্গ : সম্যক বচন (Right Speech) : এর আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে সত্য বলা, মিথ্যা পরিত্যাগ এবং বাকসংযম। বৌদ্ধদর্শনে এর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। সম্যক সংকল্পের বাহ্য রূপ হচ্ছে সম্যক বাক বা সম্যক বচন। কেননা দ্বেষ, হিংসা প্রভৃতি কু-প্রবৃত্তি থেকেই মিথ্যাভাষণ ও কপটতার সৃষ্টি হয়। নির্বাণলাভ করতে হলে মিথ্যা ও কটুভাষণ বর্জন করতে হবে। সত্য, হিতকর ও প্রীতিপ্রদ কথা বলতে হবে। কেবল সত্যভাষণই দুঃখ, দুঃখহেতু, দুঃখনিরোধ এবং দুঃখনিরোধের মার্গ সম্যক বচনের জন্য পর্যাপ্ত নয়। যে বাক্যে অন্যের কষ্ট হয় সেরূপ পৌরুষ বা কটু বাক্যের পরিত্যাগও বাঞ্ছনীয়।
.
(৪) চতুর্থ অঙ্গ : সম্যক কর্মান্ত (Right Actions) : পূর্বজন্মের কৃতকর্মের ফল বা সংস্কার এ জন্মে ভোগ করতেই হবে, এর ব্যতিক্রম কখনোই সম্ভব নয়। এ জন্মেও যদি তৃষ্ণা বা আসক্তিবাহিত ফলভোগের আকাঙ্ক্ষা থাকে তবে পরের জন্মে আবার দুঃখ ভোগ করতে হবে। এজন্যে দুঃখের সংসারে পুনর্বার জন্ম না-নিতে হলে লোভ, মোহ, বাসনা প্রভৃতি পরিত্যাগ করে কর্মান্ত পালন করতে হবে। সম্যক কর্মান্তের অর্থ খারাপ কর্মের পরিহার। হিংসা, দ্রোহ ও দুরাচার হতে রহিত কর্ম হচ্ছে সম্যক কর্ম।
বুদ্ধের মতে ত্রিতয় বা খারাপ কর্ম তিন প্রকার- হিংসা, স্তেয় (অন্যের সম্পদ অপহরণ) ও ইন্দ্রিয়ভোগ। তাঁর মতে এগুলো হচ্ছে সম্যক কর্মের প্রতিকূল। অতএব অহিংসা (প্রাণীহিংসা না করা), অস্তেয় (অন্যের সম্পদ অপহরণ না-করা) এবং ইন্দ্রিয়সংযম (ইন্দ্রিয়সুখ পরিত্যাগ) হলো সম্যক কর্মান্তের তাৎপর্য।
.
বুদ্ধ গৃহস্থ উপাসক, ভিক্ষু প্রভৃতির জন্য ভিন্ন ভিন্ন কর্মের আদেশ দিয়েছেন। নির্বাণ প্রাপ্তি অত্যন্ত দুষ্কর। গৃহস্থের জন্য তা সম্ভব নয়। উপাসকের জন্য ত্রিশরণ গমনের বিধি রয়েছে। যে গৃহস্থ উপাসক হতে চায় তাকে বুদ্ধ, ধর্ম ও সঙ্ঘের শরণ নিতে হয়। বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি, ধর্মং শরণং গচ্ছামি, সঙ্ঘং শরণং গচ্ছামি- এরা ত্রিরত্ন নামে প্রসিদ্ধ। বুদ্ধের শরণে বা আশ্রয়ে যাওয়ার অর্থ বুদ্ধকারক ধর্মের শরণে যাওয়া।
উপাসক যারা স্বর্গোপপত্তি চায় তাদের জন্য বুদ্ধ পাঁচটি বিরতি এবং ভিক্ষুদের জন্য দশটি বিরতির নির্দেশ করেছেন। এগুলোকে পঞ্চশীল ও দশশীল বলা হয়। এই শীলগুলো হচ্ছে যথাক্রমে- (১) প্রাণাতিপাতের বিরতি, (২) অদত্তাদানের বিরতি, (৩) অব্রহ্মচর্য বা কর্মে মিথ্যাচারের বিরতি, (৪) মৃষাবদের বিরতি, (৫) সুরা মৈরেয় (মৈথুন) প্রমাদ স্থানের বিরতি, (৬) অকালভোজন বিরতি, (৭) নৃত্যগীতবাদিত্র বিরতি, (৮) মাল্যগন্ধবিলেপন বিরতি, (৯) উচ্চাসনশয়ন বিরতি ও (১০) জাতরূপ রজত প্রতিগ্রহ থেকে বিরতি । প্রথম পাঁচটি পঞ্চশীল এবং সবগুলো মিলে দশশীল।
.
উপাসকের কাজ হচ্ছে ধর্ম শোনা, উপবাস ব্রত পালন করা, ভিক্ষুকে দান দেয়া। উপাসককে ভদ্রকশীল ও ভদ্রকদৃষ্টিতে সমন্বাগত হতে হয়। তাকে মানসিক, কায়িক ও বাচিক কুচরিত হতে দূরে থাকতে হয়। সুচরিত পালন করতে হয়। এভাবে সে অপায়গতি হতে রেহাই পায় এবং স্বর্গে উৎপন্ন হয়।
.
(৫) পঞ্চম অঙ্গ : সম্যক আজীব (Right Living) : সম্যক আজীবের অর্থ ন্যায়পূর্ণ জীবিকা উপার্জন। পঞ্চশীলকে অনুসরণ করে ভোগবাসনা শূন্য হয়ে সৎপথে সৎকর্মের মাধ্যমে জীবিকা অর্জনকে বলা হয়েছে সম্যক আজীব। গৃহী এবং সন্ন্যাসীভেদে সম্যক আজীব ভিন্ন। গৃহী ব্যক্তি তার সামর্থ ও স্বভাব অনুযায়ী জীবন যাপন করতে পারে। কিন্তু একমাত্র সন্ন্যাস গ্রহণের পরই নির্বাণ প্রাপ্তি হয়। পরের প্রতি দ্রোহবর্জিত জীবিকাই হচ্ছে সম্যক আজীব। তৎকালীন শাসক-শোষক সমাজোনুমোদিত সকল প্রকার জীবিকার মধ্যে প্রাণী-হিংসা-যুক্ত কয়েকটি জীবিকাকে বুদ্ধ মিথ্যা জীবিকা বলে উল্লেখ করেছেন- অস্ত্র ব্যবসা, প্রাণী ব্যবসা, মাংস বিক্রয়, মদ্য ও বিষের বাণিজ্য।
অনেকে মনে করেন, সম্যক আজীবে সম্যক কর্মান্তের পুনরাবৃত্তি হয়েছে। কিন্তু বুদ্ধ সম্যক আজীবকে পৃথক সোপান বলেছেন এজন্যে যে, মানুষ সম্যক কর্মান্তের পালন করেও কখনো কখনো জীবন নির্বাহের জন্য অনুচিত পথ আশ্রয় করে। অতএব সম্যক কর্মান্ত যাতে সার্থক হয় সেকারণে সম্যক আজীব পালন অপরিহার্য।
.
(গ) সম্যক যোগ বা সমাধি (tranquility) :
(৬) ষষ্ঠ অঙ্গ : সম্যক ব্যায়াম (Right Efforts) : উপরিউক্ত পাঁচটি মার্গ পালন করলেও সাধক নির্বাণ লাভে সমর্থ হয় না। কেননা মানুষের মনে পুরাতন খারাপ বিচার ঘর বেধে আছে এবং নতুন খারাপ বিচার নিরন্তর মনে প্রবাহিত হতে থাকে। সেকারণে পুরাতন খারাপ বিচারকে মন থেকে নিরসন করা এবং নতুন খারাপ বিচারকে মনে আসা রোধ করা প্রয়োজন। মন কখনো শান্ত হয় না, তাই মনকে ভালো ভাবে পরিপূর্ণ রাখতে হয় এবং ভালো ভাব মনে বলবৎ রাখার জন্য যত্নশীল হতে হয়। সম্যক ব্যায়ামের অর্থ হচ্ছে ভালো উৎপন্ন করার জন্য সতত উদ্যোগ। এই ব্যায়াম চার প্রকার- (১) পুরাতন খারাপ বিচারকে বের করে দূর করা অর্থাৎ কু-চিন্তার বিনাশ সাধন করা, (২) নতুন খারাপ বিচারকে মনে প্রবেশ করতে না-দেয়া অর্থাৎ কু-চিন্তার উৎপত্তি দূর করা, (৩) মনকে সুচিন্তায় নিরত করা অর্থাৎ ভালো ভাব মনে পূর্ণ করা এবং (৪) এই ভাবকে মনে কার্যকর রাখতে সর্বদা ক্রিয়াশীল হওয়া অর্থাৎ সুচিন্তা উৎপাদনের জন্য সচেষ্ট হওয়া।
অর্থাৎ এই চতুর্বিধ প্রযত্নের মাধ্যমে বিহিত কর্মের অনুষ্ঠানে এবং প্রতিষিদ্ধ কর্মের বর্জনে যে দৃঢ় অধ্যবসায় তা-ই হচ্ছে সম্যক ব্যবসায় বা ব্যায়াম।
.
(৭) সপ্তম অঙ্গ : সম্যক স্মৃতি (Right Thought) : সম্যক স্মৃতির অর্থ লোভ আকাঙ্ক্ষা প্রভৃতি চিত্তসন্তাপ থেকে পৃথক থাকা। যে স্মৃতিতে মনে অকুশলের চিন্তা উদিত হয় না এবং সর্বদা কুশলকর বুদ্ধি জাগ্রত থাকে তা-ই সম্যক স্মৃতি।
সম্যক স্মৃতি পালন করা খুবই সূক্ষ্মবোধের বিষয়। এ যাবৎ যে সকল বিষয়ের জ্ঞান হয়েছে তাদের সর্বদা স্মরণ রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। সম্যক স্মৃতি হচ্ছে বস্তুর বাস্তবিক স্বরূপ সম্বন্ধে অবহিত থাকা। নির্বাণেচ্ছু সাধককে সদাসর্বদা মনে রাখতে হয়, ‘আমি দেহ নই, আমি মন নই, আমি সংবেদন নই, আমি কোন মানসিক অবস্থাও নই।’ শরীর, মন, সংবেদন সব কিছুই অনিত্য ও দুঃখকর। মানুষ অজ্ঞানের বশে শরীর, মন, সংবেদন ইত্যাদিকে স্থায়ী এবং সুখজনক বলে মনে করে। আর সে কারণেই বিষয়ে আসক্ত হলে বস্তুগুলির নাশে দুঃখ অনুভব হয়। তাই তাদের বাস্তবিক স্বরূপ স্মরণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। শরীরকে ক্ষণভঙ্গুর বলে উল্লেখ করে বুদ্ধ বলেছেন, শ্মশানে গিয়ে শরীরের নশ্বরতাকে দেখা যায়। এই অনিত্যতায় বিশ্বাস দৃঢ় হলে আসক্তি থাকবে না। ফলে নির্বাণ লাভের পথ সহজতর হয়। সম্যক স্মৃতির পালন নির্বাণেচ্ছু ব্যক্তিকে সমাধির যোগ্য বানায়।
.
(৮) অষ্টম অঙ্গ : সম্যক সমাধি (Right Tranquility) বা ধ্যান (Concentration) : রাগদ্বেষ বর্জিত চিত্তের প্রচণ্ড একাগ্রতা, যার দ্বারা মানসিক চাঞ্চল্য সম্পূর্ণ দূরীভূত হয় তাকেই সম্যক সমাধি বলে। সমাধিতে সাধক নির্বাণ লাভ করেন।
উপরিউক্ত সাতটি সোপানে চলার পর নির্বাণলাভের জন্য সাধক নিজের চিত্তবৃত্তিকে নিরোধ করে সমাধির অবস্থায় আসতে যোগ্য হয়। এই সমাধি বা ধ্যানকে চার্বাক ব্যতীত অন্য সকল ভারতীয় দার্শনিক কোন-না-কোনভাবে স্বীকার করেছেন। তবে বৌদ্ধ ও যোগদর্শনে সমাধির উপর অধিক জোর দেয়া হয়েছে। বুদ্ধ সমাধির চারটি স্তর বা অবস্থা স্বীকার করেছেন। এগুলো হলো-
.
সমাধির প্রথম অবস্থায় সাধক চারটি আর্যসত্যের মনন ও চিন্তন করবে। এটি হচ্ছে তর্ক ও বিতর্ক অবস্থা। এ সময় সাধকের মনে অনেক প্রকার সংশয় উৎপন্ন হয়, সে স্বয়ং তাদের নিরাকরণ করবে।
প্রথম অবস্থার পর সকল সন্দেহ দূর হয়ে যায়। আর্যসত্যের প্রতি শ্রদ্ধাভাবনার বিকাশ হয়। ধ্যানের এই দ্বিতীয় অবস্থায় তর্ক ও বিতর্কের প্রয়োজন হয় না। এ স্তরে আনন্দ ও শান্তির অনুভূতি হয়। এবং এ অবস্থায় আনন্দ ও শান্তির অনুভূতির চেতনা বিদ্যমান থাকে।
আনন্দ ও শান্তির চেতনার প্রতি ঔদাসীন্য জন্মালে সমাধির তৃতীয় অবস্থা শুরু হয়। আনন্দ ও শান্তির চেতনা নির্বাণপ্রাপ্তিতে বাধক হয়। সেকারণে আনন্দ ও শান্তির চেতনাতে সাধক তটস্থ হতে প্রয়াসী হয়। এ স্তরে আনন্দ ও শান্তির চেতনা আর থাকে না। তবে শারীরিক স্বাচ্ছন্দ্যের জ্ঞান বিদ্যমান থাকে।
সমাধির চতুর্থ অবস্থায় দৈহিক বিশ্রাম ও মনের ভাব নষ্ট হয়। এ স্তরে সুখ, দুঃখ, আনন্দ, শান্তি- কোনকিছুরই অনুভূতি থাকে না। এ অবস্থা প্রাপ্ত হলে সাধককে ‘অর্হৎ’ বলা হয়। এটিই হচ্ছে নির্বাণ অবস্থা। এখানে জীব সুদ-দুঃখকে অতিক্রম করে যায়।
.
বুদ্ধ অষ্টাঙ্গিক মার্গকে প্রজ্ঞা, শীল ও সমাধি নামক তিনটি বিশেষ অঙ্গে বিভাজন করেছেন। সম্যক দৃষ্টি ও সম্যক সংকল্প প্রজ্ঞায় অন্তর্গত হয়। সম্যক বাক্, সম্যক কর্মান্ত, সম্যক আজীব ও সম্যক ব্যায়াম শীলে অন্তর্ভূক্ত। সম্যক স্মৃতি ও সম্যক সমাধি সমাধিতে অন্তর্গত হয়। আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গের আচরণ দ্বারা কেবল শান্তি, দিব্যজ্ঞান, সম্বোধি বা নির্বাণ লাভই হয় না, জীবনে সুখ, কীর্তি, যশও লাভ হয়। প্রজ্ঞার দ্বারা সর্বভবকে, শীল দ্বারা পাপকে এবং সমাধির দ্বারা কামধাতুকে অতিক্রম করা যায়। বৌদ্ধসাধনায় একে ত্রিশিক্ষাও বলা হয়।

0 বুদ্ধের বাণী - স্বামী বিবেকানন্দ ।

আমি সারা জীবন বুদ্ধের অত্যন্ত অনুরাগী, ….. অন্য সব চরিত্রের চেয়ে এঁর চরিত্রের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা অধিক। আহা, সেই সাহসিকতা, সেই নির্ভিকতা, সেই গভীর প্রেম ! মানুষের কল্যানের জন্যই তাঁর জন্ম ! সবাই নিজের জন্য ঈশ্বরকে খুঁজছে, কতলোকই সত্যানুসন্ধান করছে ; তিনি কিন্তু নিজের জন্য সত্যা লাভের চেষ্টা করেননি। তিনি সত্যের অনুসন্ধান করেছেন মানুষের দুঃখে কাতর হয়ে। কেমন ক'রে মানুষকে সাহায্য করবেন, এই ছিল তাঁর একমাত্র চিন্তা। সারা জীবন তিনি কখন নিজের ভাবনা ভাবেননি। এত বড় মহৎ জীবনের ধারনা আমাদের মতো অজ্ঞ স্বার্থান্ধ সঙ্কীর্ণ চিত্ত মানুষ কি ক'রে করতে পারে ?......
তারপর তাঁর আশ্চর্য বুদ্ধির কথা ভেবে দেখ। কোনরকম ভাবাবেগ নেই । এই বিশাল মস্তিষ্কে কুসংস্কারের লেশও ছিল না। প্রাচীন পুথিতে লেখা আছে, পিতৃপুরুষদের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া গেছে, অথবা বন্ধুরা বিশ্বাস করতে বলছে-এই সব কারণে বিশ্বাস ক'রো না ; তুমি নিজেই বিচার করে দেখ, নিজেই সত্যানুসন্ধান কর ; নিজেই অনুভব কর। তারপর যদি তুমি তা অন্যের বা বহুর পক্ষে কল্যানপদ মনে কর, তখন তা মানুষের মধ্যে বিতরণ কর। কোমলমস্তিষ্ক ক্ষীণমতি দুর্বলচিত্ত কাপুরুষেরা কখন সত্যকে জানতে পারে না। আকাশের মতো উদার ও মুক্ত হওয়া চাই। চিত্ত হবে নির্মল স্বচ্ছ, তবেই তাতে সত্য প্রতিভাত হবে। কি কুসংস্কার রাশিতে পরিপূর্ণ আমরা সবাই! তোমাদের দেশেও, যেখানে তোমরা নিজেদের খুবই শিক্ষিত বলে ভাবো, কী সঙ্কীর্ণতা আর কুসংস্কারে আচ্ছন্ন তোমরা! ভেবে দেখ তোমাদের এত সভ্যতার গর্ব সত্ত্বেও আমি নিতান্ত হিন্দু বলেই কোন এক অনুষ্টানে আমাকে বসতে আসন দেওয়া হয় নি।.....
খ্রীষ্টের জন্মের ছ-শ বছর আগে, বুদ্ধ যখন জীবিত ছিলেন, ভারতবাসীরা অবশ্যই আশ্চর্য রকম শিক্ষিত ছিল ; নিশ্চই তারা উদার ছিল। বিশাল জনতা বুদ্ধের অনুগামী হয়েছিল, নৃপতিরা সিংহাসন ত্যাগ করেছিলেন, রানীরা সিংহাসন ছেড়ে দিয়ে এসেছিলেন। জনসাধারণ সকলেই তাঁর উপদেশগুলি সমাদর ক'রে গ্রহন করতে পেরেছিল, কারণ তাঁর শিক্ষা এত বিপ্লবাত্মক ছিল, এবং যুগ যুগ ধরে প্রচারিত পুরহিতদের শিক্ষার চেয়ে বিভিন্ন ছিল! অবশ্য তাদের মনও ছিল উন্মুক্ত ও প্রশস্ত, যা সচারাচর দেখা যায় না।…………………………………………………
এমন কি অন্তিম কালেও তিনি নিজের জন্য কোন প্রতিষ্ঠা দাবী করেননি। এই কারণেই আমি তাঁকে শ্রদ্ধা করি। বুদ্ধ ও খ্রীষ্ট হচ্ছেন উপলব্ধির এক একটির অবস্থার নামমাত্র। লোকশিক্ষাকদের মধ্যে বুদ্ধই আমাদের আত্মা-বিশ্বাসী হ'তে সবচেয়ে বেশী ক'রে শিক্ষা দিয়েছেন, শুধু মিথ্যা 'অহং' -এর বন্ধন থেকে আমাদের মুক্ত করেননি, অদৃশ্য ঈশ্বর বা দেবতাদের উপর নির্ভররতা থেকেও মুক্ত করেছেন। মুক্তির সেই অবস্থা-যাকে তিনি নির্বাণ বলতেন, তা লাভ করবার জন্য প্রত্যেককেই আহ্বান করেছিলেন। একদিন সে-অবস্থায় সকলেই উপনীত হবে; সেই নির্বাণে উপনীত হওয়াই হচ্ছে মনুষ্য-জীবনের চরম সার্থকতা।


( ১৯০০ খৃঃ ১৮ই মার্চ স্যান ফ্রান্সিস্কোতে প্রদত্ত ভাষণের কিছু অংশ )
 

0 জনশ্রেষ্ঠ শাস্ত্রা কৌণ্ডিণ্য বুদ্ধ

জ্যোতিঃশালী দীপঙ্কর বুদ্ধের পর শীল-গুণ পূণ্য-তেজে অনন্ত তেজসম্পন্ন অপ্রমেয় গুণবান ও অপরাজেয় কৌণ্ডিণ্য বুদ্ধের আবির্ভাব হয়েছিল। তিনি ক্ষান্তি গুণে দুইলক্ষ চল্লিশ হাজার যোজন গভীর পৃথিবীর ন্যায়, শীলগুণে সাগর সদৃশ, সমাধি গুণে সুমেরু পর্বত সদৃশ আর জ্ঞানে অনন্ত আকাশের ন্যায় ছিলেন। তিনি সর্বদা প্রাণীগণের হিতরে জন্য, পঞ্চেন্দ্রিয়, সপ্ত বোধ্যঙ্গ, অষ্টমার্গসত্যাদি প্রকাশক সদ্ধর্ম প্রচার করেছিলেন।

কৌণ্ডিণ্য বুদ্ধ রম্যবতী নগরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সুনন্দ ক্ষত্রিয়, মাতার নাম সুজাতা দেবী; রুচী দেবী নামে প্রধানা মহিষী এবং বিজিতিসেন নামক পুত্র ছিল। তিনি চারি প্রকার পূর্বনিমিত্ত দর্শন করে রথারোহণে গৃহ ত্যাগ করেছিলেন এবং অন্যূন দশমাস ব্যাপী দৃঢ় প্রচেষ্টায় বুদ্ধত্ব লাভ করেছিলেন। ভদ্র ও সুভদ্র নামে দু'জন অগ্রশ্রাবক, অনুরুদ্ধ সেবক এবং তিষ্যা ও উপতিষ্যা ছিলেন অগ্রশ্রাবিকা। শাল কল্যাণী বৃক্ষ বোধিদ্রুম। তাঁর উচ্চতা ৮৮ হাত ও পরমায়ু লক্ষ বৎসর ছিল। তিনি প্রথম ধর্ম সভায় কোটিশত হাজার, দ্বিতীয় ধর্ম সভায় সহস্রকোটি ও তৃতীয় ধর্ম সভায় নব্বইকোটি নর-দেব-ব্রহ্মাকে ধর্মামৃত পান করিয়েছিলেন। শাস্ত্রাপ্রবর কৌণ্ডিণ্য বুদ্ধ চন্দারামে পরিনির্বাণ প্রাপ্ত হয়েছিলেন। সেখানে সাত যোজন উচ্চ বিচিত্র চৈত্য নির্মিত হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, কৌণ্ডিণ্য বুদ্ধের শারীরিক অস্থি ধাতুসমূহ বিকীর্ণ হয় নি। সুবর্ণ প্রতিমার ন্যায় জমাট হয়ে বিদ্যমান ছিল। তখন গৌতম বুদ্ধ বোধিসত্ত্বাবস্থায় বিজেতাবী নামক চক্রবর্তী রাজা ছিলেন।

"বন্দে কোণ্ডঞ্ঞো সত্থারং সিরসা নিচ্চং, বুদ্ধ কোণ্ডঞ্ঞো সরণং গচ্ছামি" শাস্ত্রা কৌণ্ডিণ্য বুদ্ধকে নতশিরে বন্দনা করছি, আমি কৌণ্ডণ্য বুদ্ধের শরণ গ্রহণ করছি। এ বন্দনা-শরণের প্রভাবে আমার আপনার সকলের সর্বপ্রকার জয়মঙ্গল হোক।

Monday, December 2, 2013

0 তারুণ্যের অগ্রায়নে ধর্মীয় শিক্ষার ভূমিকা

মহাকারুণিক বুদ্ধ বলেছেন মানব জন্ম অত্যন্ত দুর্লভ। মহাপুণ্যের ফলে কর্ম প্রভাবে মনুষ্য জন্ম লাভ হয়। সর্বজীবের শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ। কারণ মানুষের মধ্যে জ্ঞান বুদ্ধি ও বিবেক আছে বলে মানুষকে শ্রেষ্ঠ জীব হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আর মানুষ যখন বিবেকবর্জিত কোন কাজ করে তখন সচেতন মহলের মনে দুঃখ জাগ্রত হয়। মানুষের অন্তরে লুকায়িত সুপ্ত বিবেককে সচেতন করার জন্য প্রয়োজন শিক্ষা। শিক্ষা বর্তমান প্রতিযোগীতার বিশ্বে আপন অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রধান বাহন। শিক্ষিত হলে মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত হবে এমন চিন্তুা করাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। কারণ দেখা যাচ্ছে সমাজের অগণিত শিক্ষিত মানুষের বিবেক বর্জিত কাজের জন্য সমাজের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সৃষ্টি হয় সমাজ তথা দেশে নানা অশান্তি ও বিশৃংখলা। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য ধর্মীয় জ্ঞানের প্রয়োজন। ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হলে মানুষের মধ্যে জ্ঞানচক্ষু উৎপন্ন হয়। জ্ঞানচক্ষু উৎপন্ন হলে মানুষ নিজেকে পরিশুদ্ধভাবে পরিচালনার ক্ষমতা রাখবে, যার জন্য আর সমাজে কোন রকম বিশৃংখলা সৃষ্টি হবে না এবং কাউকে কোনরকম দুর্ভোগে পড়তে হবে না। এজন্য মানুষকে ধর্ম জ্ঞানে জ্ঞানী হতে হবে। সংসার জীবনে সাধারণ শিক্ষার প্রয়োজন সর্বাগ্রে। সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে গিয়ে ধর্মীয় শিক্ষার কথা মানুষ বেমালুম ভুলে যায়। তবে ধর্মীয় জ্ঞানে অত্যধিক জ্ঞানী হতে না পারলেও ন্যূনতম ধর্মীয় জ্ঞান মানুষের থাকা প্রয়োজন নিজেকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য। জ্ঞানার্জনের জন্য পাঠাভ্যাস অত্যন্ত প্রয়োজন।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে জ্ঞানী লোকদের পাঠাভ্যাস কি পরিমাণ ছিল। যে কোন বিষয় পাঠ করলে সেখান থেকে ভালো ও উপাদেয় বিষয়গুলো হৃদয়ঙ্গম করা যায় এবং তাতে আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়। মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির জন্য লেখাপড়ার বিকল্প নেই। তবে একাডেমিক শিক্ষায় শিক্ষিত হলে তাদের মানবিক মূল্যবোধ ততটুকু সম্প্রসারিত হয় না। কেননা, আমরা প্রতিদিন পত্রিকার পাতা খুললেই দেখি খুন, নির্যাতন, ছিনতাই, অসহায় মানুষের উপর নিপীড়ন। এসব কাজ তারাই করে- যাদের মানবিক মূল্যবোধ লুপ্ত, তাড়নাহীন বিবেক। প্রকৃত ধর্মীয় শিক্ষায় নিজেকে সুশিক্ষিত করতে পারলে কোন পাপাচার মানুষকে ষ্পর্শ করতে পারে না।
নৈতিক চরিত্রের অধিকারী মানুষ দেশ ও জাতির গর্ব। সত্যকে সত্য বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা এবং ন্যায়-অন্যায় ও সত্য মিথ্যার ভেদাভেদ বুঝে নিজের মানবিক গুণাবলী দ্বারা সমাজকে আলোকিত করা প্রয়োজন। কারণ নৈতিক মূল্যবোধ ছাড়া মনুষ্যত্ব অর্জন করা সম্ভব নয়। কাজী মোতাহার হোসেন বলেছেন- ” জীবন বৃক্ষের শাখায় যে ফুল ফোটে, তাই মনুষ্যত্ব। বৃক্ষের গোড়ায় জল ঢালতে হবে এই ফুলের দিকে লক্ষ্য করে। শুধু শুধু মাটির রস টেনে গাছটা মোটা হয়ে উঠবে এই ভেবে কোন মালী গাছের গোড়ায় পানি ঢালে না। সমাজব্যবস্থাকেও ঠিক করতে হবে মানুষকে খাইয়ে দাইয়ে মোটা করে তুলবার জন্যে নয়, মানুষের অন্তরের মূল্যবোধ তথা সৌন্দর্য্য, প্রেম ও আনন্দ সম্বন্ধে আনন্দ জাগিয়ে তুলবার উদ্দেশ্যে।”

সুশৃংখল নিয়ম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং আদর্শ নীতিবোধ, জীবনচর্চা, নৈতিক মূল্যবোধের অন্তর্গত। নৈতিক মূল্যবোধহীন সমাজ বর্বর সমাজ। নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় অবনতি হলে সেই সমাজের সবকিছু ধ্বংসের প্রান্তে চলে যায়। যার পরিণতিতে হত্যা, সন্ত্রাস, অপহরণ, নির্যাতন, ছিনতাই, দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়। যা এখন আমাদের সমাজে অহরহ ঘটছে। মানুষের নৈতিকতা, মূল্যবোধ কতটুকু নিুপর্যায়ে ধাবিত হয়েছে প্রতিদিন পত্রিকার পাতা উল্টালে এবং গণমাধ্যমের খবরের শিরোনাম দেখলেই বোঝা যায়। কেন নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় হচ্ছে? তার কারণ বিশ্বজুড়ে পুঁজিবাদের আধিপত্য যান্ত্রিক জীবনের গতিশীলতা বিস্তার, একান্নবর্তী পরিবার ভেঙ্গে যাওয়া, স্বার্থপরতা বৃদ্ধি, শিক্ষাব্যবস্থায় নীতিশিক্ষার অপ্রতুলতা, সমাজের উঁচুস্তরের মানুষদের অপরাধসমূহের প্রভাব পরবর্তী প্রজন্মকে ভয়াবহভাবে প্রভাব বিস্তার করছে।
উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, বর্তমান সময়ে অনেক ছাত্ররা শিক্ষকদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে না। কোথাও দেখা হলে ন্যুনতম কুশল বিনিময় পর্যন্ত করে না। বয়োবৃদ্ধদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে। তাঁদের সামনে বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য (পান, সিগারেট) পান করে। অসঙ্গতিপূর্ণ কথা বলে। গাড়ীতে উঠলে দেখা যায়, একজন বৃদ্ধ মানুষ বয়সের ভারে ন্যুজ, দাঁড়িয়ে থাকার শক্তি নেই। অথচ উনাকে কেউ সিট ছেড়ে দিচ্ছে না। মা-বাবাকে মর্যাদা দেয় না।

নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে আরো জঘন্যতম ঘটনা ঘটছে প্রতিদিন: মানুষ নামের অমানুষদের কাছে অসহায় হয়ে পড়ছে সমাজের নীতিবান মানুষেরা। মনুষ্যত্ববোধ, নৈতিক মূল্যবোধ এর অভাবে আজ এরকম পরিস্থিতির শিকার সকলেই। নাহলে কেন ধর্ষকদের হাত থেকে নিষ্পাপ শিশুরা পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছে না। কেন ধর্ষণ করে হত্যা, জনসমক্ষে এসিড সন্ত্রাস এর শিকার হতে হচ্ছে? এর প্রতিকার কিভাবে হবে?
এ রকম নৈতিকতার অভাব এখন আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ভাইরাসের মত ছড়িয়ে পড়ছে। কলুষিত হয়ে যাচ্ছে সমাজ ব্যবস্থা। প্রতিদিন একটু একটু করে কলুষিত হতে থাকলে শীঘ্রই অন্ধকারের অতলে হারিয়ে যাব। আমাদের এখুনি সচেতন হওয়া প্রয়োজন। নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে সমাজের সর্বস্তরে ন্যায়-নীতি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ছাত্র সমাজ যাতে উন্নত এবং সুশিক্ষায় শিক্ষিত এবং আদর্শ মানুষ হিসেবে সচ্চরিত্রের অধিকারী হতে পারে সেইরকম শিক্ষাব্যবস্থা এবং নীতি শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে হবে। একটি জাতির মধ্যে যখন শৃংখলাবোধ ও সুন্দর মূল্যবোধ গড়ে উঠে, তখন সেই জাতি মর্যাদাসম্পন্ন জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাড়ায়। আমাদের আছে অনেক মর্যাদাপূর্ণ ইতিহাস। আমরাও চেষ্টা করলে সততা ও নৈতিক মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারব। দায়িত্ব, নিষ্ঠা ও শৃংখলাবোধ থাকলে ব্যক্তিজীবন যেমন সুখকর হয়, তেমনি সমাজজীবনেও আসে সুখ ও সমৃদ্ধি।





বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিকরাষ্ট্র। গণতন্ত্র রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি। এদেশের মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, শান্তি আনয়নের জন্য দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে লক্ষ শহীদের রক্তে রাঙা লাল সবুজের স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে। অনেক সংগ্রামের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীনতার মর্যাদা আমরা বারে বারে ক্ষুন্ন করছি। জনসন্মুখে হত্যা, অপহরণ, ছিনতাই, ইভটিজিং এবং এসিড সন্ত্রাসের মত ঘটনা ঘটলেও নিরাপত্তাহীনতায় ভূক্তভোগী জনগণ নির্বিকার থাকতে বাধ্য হচ্ছে পাছে তারাও একই পরিস্থিতির শিকার হয় সেই ভয়ে। কারণ একটাই, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে মানুষের মনুষ্যত্ববোধ লুপ্ত হয়েছে, অসুস্থ মানসিকতার দাপটে খর্ব হয়ে যাচ্ছে সততার নৈতিকতার অগ্রগতি।

সৌজন্যে :